1. mohsinlectu@gmail.com : mahsin :
  2. zahiruddin554@gmail.com : Md. Zahir Uddin : Md. Zahir Uddin
মঙ্গলবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০১:৫২ অপরাহ্ন
বিশেষ বিজ্ঞপ্তিঃ
কপোতাক্ষ নিউজে আপনাকে স্বাগতম! (খালি থাকা সাপেক্ষে) দেশের সকল বিভাগ, জেলা, উপজেলা, বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস সহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। যোগাযোগ: ০১৭২৭-৫৬৭৯৭৬

অশ্রু সিক্ত এক স্মৃতির নাম যুথী

জি এম, মুছা
  • আপডেটের সময়ঃ সোমবার, ২৬ জুলাই, ২০২১
  • ৭৩ বার পড়া হয়েছে
যে মেয়েটি মৃত্যু কে সবচেয়ে বেশি ভয় পেত, সেই মেয়েটি কিভাবে নিজেই মৃত্যুকে আলিঙ্গন করে নীরবে-নিভৃতে এভাবে চলে যাবে কেউ তা ভাবতেই পারেনি।
প্রেমিকের নির্যাতন আর প্রতারণার ফাঁদে পড়ে,নীরবে নিভৃতে কাউকে কিছু না বলেই লোক লজ্জা ঘৃণা দুঃখ বেদনা ও মানসিক যন্ত্রণার হাত থেকে রেহাই পেতেই এই পৃথিবী থেকে চিরবিদায় নিয়ে ছিল রামপালের মেধাবী কলেজ ছাত্রী যুথি নামের মেয়েটি।
অথচ যূথী নামের এই মেয়েটি একদিন বাড়ির সবাইকে মাতিয়ে রাখতো, হেসে খেলে নেচে গেয়ে প্রাণের উচ্ছ্বলতায় বড় বেশি প্রাণবন্ত ছিল সে।
কিন্তু আজ সেই যুথি নামের মেয়েটি পৃথিবীতে নেই, আছে শুধু অশ্রু  সিক্ত এক স্মৃতি।কিছু ফুল যেমন প্রস্ফুটিত না হতেই বৃত্ত থেকে কুড়ি ছিন্ন  হয়।তেমনি হঠাৎ করেই যেনো  যুথি নামের মেয়েটি এ পৃথিবীর সকল মায়া-মমতা ছিন্ন করে চলে গেছে অনেক অনেক দূরে।যেখান থেকে কেউ আর কখনো ফিরে আসে না আসতেও পারে না।এ বাড়িতে  সে আর কখনো কাউকে জ্বালাতে আসবে না ,হেসে খেলে নেচে গেয়ে কাউকে আর মাতাবে না, হবে না কারোর বিরাগ ভাজণ, কখনো করবে না কোন দুষ্টুমি খুনসুটি।
১০ মে ২০০৫, বিশ্বাসঘাতক প্রেমিকের প্রতারণা কে সইতে না পেরে যূথী মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে নিজ ঘরে অতিমাত্রায় ঘুমের বড়ি সেবন করে আত্মহত্যা করে ছিলো। জীবন শুরুর আগেই যুথী জীবনের সকল কিছু সাঙ্গ করে পরিবারের সবাইকে কাঁদিয়ে একা একি অচেনা অজানার উদ্দেশ্যে পাড়ি জমালো। যুথি হঠাৎ করে এই পৃথিবী ছেড়ে চলে যাবে কেউ তা ভাবতেই পারেনি। সত্যি কথা বলতে কি যূথ ছিল এ বাড়ির সবার মধ্যমণি , যূথী যখন খুব ছোট্ট ছিল, গুটি গুটি পায়ে বাড়ির সমস্ত উঠোন জুড়ে হাটতো, ছুটো ছুটি করত, তখন যেন মনে হতো নুপুর পরে কোন ফুলপরি পথ ভুল  করে এ বাড়ির উঠোনে এসে পড়েছে।
তাইতো মা-বাবা-ভাই-বোন নানা-নানী দাদা-দাদী  খুব আদর করে যুথি কে” ফুলপরি”বলে ডাকত। যূথী ছিল একেবারে সকলের অন্তরে সঙ্গে গাথা, যেন একটি যূথী ফুলের মালা, সবার চোখের মনি।
এভাবেই বেড়ে উঠে যূথী, যূথীর বাবা আলমগীর হোসেন কন্যা যুথী কে একসময় গ্রামের আলিপুর প্রাইমারি স্কুলে ভর্তি করে দিলেন , যুথি কৃতিত্বের সঙ্গে প্রাইমারি শেষ করে স্থানীয় গার্লস হাই স্কুলে ভর্তি হয়,দিন যায় বছর যায় এখানেও যূথী অনেক কৃতিত্বের সঙ্গে এস এস সি পাস করে কলেজের বারান্দায় পা রাখতে যৌবনের দেবী এসে ঘুরঘুর করতে থাকে যূথীর জীবন নদীর বাঁকে বাঁকে, দোলা দেয় ঢেউ তোলে জীবন নদীতে, উচছ্বাস তরঙ্গ ছলাত ছলাত, তীর তীর করে বয়ে চলে জীবন নদীর বুকের অনাবাদি জমিন জুড়ে,বাগেরহাট রামপাল থানার গিলাতলা “আবুল কালাম মহাবিদ্যালয়” প্রথম বর্ষে ভর্তি হয় যূথী,কলেজে পড়াকালীন সময়ে যূথীর সঙ্গে পরিচয় ঘটে একই উপজেলার বাইনতলা গ্রামের মধ্যবিত্ত পরিবারের সুঠামদেহী সুদর্শন তরুণ কবিরের সঙ্গে, বয়সের কারণেই হয়তো যুবক কবিরকে ভালো লেগে যায় যূথীর, ব্যাস ভালো লাগা থেকে ভালোবাসা হয় প্রেম চলে গোপন অভিসারের দুজনার সঙ্গে দুজনার প্রেম আলাপ। হয় চোখাচোখি মন দেয়া নেয়া,মুক্ত বিহঙ্গের মত দুজনা ডানা মেলে উড়ে চলে ভেসে বেড়ায় দিগন্ত ব্যাপী।১৮ বছরের পূর্ণ যৌবনা রুপের রানী, প্রেমের দেবী যেন যূথী। অপূর্ব দেহবল্লরী মুখে মধুর হাসি,উচ্ছাস আর উচ্ছ্বলতায় ভরপুর রূপ লাবণ্য। অপূর্ব গঠনশৈলী, শত শত যুবকের হৃদয়ের স্পন্দন, ঘুম কেড়ে নেয় অতি সহজে, কাছে টানে অনবরত।স্বপ্নেও ভাবতে পারিনি যূথী,তার এই ভালোলাগা ভালবাসার সুদর্শন প্রেমিক পুরুষটি একদিন যুথীর মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়াবে। যূথীর প্রেমিক পুরুষটি  অস্বীকার করবে যূথীর তিল তিল করে পাঁচ বছরের গড়ে তোলা অটুট সম্পর্ক মধুর প্রেম ভালবাসাকে।
 করবে প্রতারণা, না কেউ ভাবতে পারিনি, ভাবতেও যেন অবাক লাগে।২০০৫ সাল জানুয়ারি কোন এক সময় কবির হঠাৎ একদিন যুথি কে জানায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতের কবিরের চাকরি হয়ে গেছে, যুথি অনেক খুশি হয় আনন্দে আত্মহারা যূথী খুব ব্যাকুল হয়ে ওঠে।যূথী: তুমি সত্যি বলছো কবির, তোমার চাকরি হয়েছে?
কবির: হ্যাঁ সত্যি বলছি আমার চাকরি হয়েছে। যূথীর যেন আনন্দ আর ধরে না। আনন্দ উচ্ছ্বাসে যুথীর চোখে জল এসে যায়। অনেকক্ষণ ধরে ওদের দুজনের কথা হল, রঙিন পাখনা মেলে যূথীর উড়ে যেতে ইচ্ছে করে।দুজনেই রঙিন স্বপ্নে বিভোর কিছুক্ষণের জন্য দুজন দুজনের মধ্যে হারিয়ে যেতে চাইলো। কিন্তু না যূথী নিজেকে শক্ত করে ধরে রাখে, আবেগকে প্রশ্রয় দিতে রাজি হয়নি সেদিন।
এরপর থেকে যূথী যেন নিজের মনের অজান্তে মনে মনে স্বপ্নে বিভোর হয়ে রঙিন বেনারসি শাড়ি পড়ে বউ সেজে ঘোমটা দিয়ে প্রেমিক কবিরের বউ সেজেছে কতবার তার কোন হিসাব গাঁথা নেই,ধীরে ধীরে যূথী নামের মেয়েটি  তার প্রেমিক পুরুষ সুদর্শন সুঠাম দেহী সৈনিক কবিরের বউ হওয়ার স্বপ্ন দেখে মনে মনে যূথী।
কিন্তু বিধি যেন বাম। যূথীর স্বপ্ন, স্বপ্ন থেকে যায়। বাস্তবে তার সত্যি হলো না। যূথীর জীবনের সব স্বপ্ন যেন হঠাৎ একটি দুষ্টু ঝড়ে  তছনছ করে দিয়ে গেল নিমেষের মধ্যে।কারন যুবতী বুঝতে পেরেছিল প্রেমিক কবির চাকরি পেয়ে ভুলতে বসেছে অজ পাড়াগাঁয়ের মেয়ে যূথী কে ,যূথীর প্রেম ভালবাসাকে, এ পৃথিবী বড়ই নিষ্ঠুর।
তাইতো যূথী একদিন আপন মনের খেয়ালে নিজের ব্যক্তিগত একটি ডায়েরীতে যূথী তার প্রেমিক কবির কে উদ্দেশ্য করে একটি চিঠি লিখল:
প্রিয়তম,
কবির তোমাকে লিখছি, জানি, তোমার জীবনের প্রথম সরকারি চাকরি, তোমার আত্মীয় স্বজনরা অনেক অনেক খুশি। এটা কম আনন্দের কথা নয়, ১২এপ্রিল ২০০৫তোমার জন্মদিনে তুমি বাড়িতে আসছো শুনলাম, তোমার জন্মদিনের উপহার দেব বলে গিলাতলা বাজারে স্বর্ণকারের দোকান থেকে একটি স্বর্ণের আংটি বানিয়েছি, পরে বুঝতে পারলাম বড় ভুল করেছি, তোমাকে ভালোবেসে, জানিনা এ ভুলের জন্য তোমার নিকট ক্ষমা চাইবার সুযোগ হবে কিনা? তাই নিজেই ক্ষমা চাওয়ার ভঙ্গিতে একটি ছবি তুলেছি।
অতি যত্নের ছবিটি ও আংটিটি রেখেছি, তোমার জন্মদিনে হয়তো আমার যাওয়ার সৌভাগ্য হবে না, তবে যুথি নামের একটি মেয়েকে তুমি একদিন চিনতে, তাই তার স্মৃতি টুকু থাকলো। যদি তুমি ক্ষমা করো তাহলে, এইটুকু হবে আমার মৃত্যুর সান্তনা। আমার আর কোন চাওয়া পাওয়া নেই তোমার কাছে।
তোমার সাথে আমার আর শেষ দেখা হলো না। অনেক জ্বালিয়েছি তোমাকে আমাকে ক্ষমা করো, আয়না ভালোবেসে সবাই সবকিছু পায় না এটা তোমার কথা আজ তোমাকে ফিরিয়ে দিলাম।
জীবনের অন্তীম লগ্নে আজ অন্তত: বিশ্বাস করো আমাকে, জানো আমি ১২১ দিন তোমাকে দেখি না। অনেকের কাছে শুনেছি জুলাইতে তুমি বাড়ি আসছো, কিন্তু তুমি আমার জন্য হাসছো না, আশা করি আজ থেকে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় বোঝাটা তোমার মাথা থেকে নেমে যাবে । তোমার উপর আমার কোন অভিযোগ নাই, রাগ নেই, আমি তোমাকে ক্ষমা করে দিয়েছি, পারলে আমার জন্য পরম করুনাময়ের কাছে দুহাত তুলে আমার জন্য একটু দোয়া করো। প্লিজ
                                           ইতি,
                                তোমার হতভাগিনী
                                              যূথী
(এটি একটি বাস্তব জীবনের গল্প):  সূত্র দৈনিক গ্রামের কাগজ, সপ্তম বর্ষ ৫৫ সংখ্যা ২৪ মে ২০০৫ তৃতীয় পাতা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

One thought on "অশ্রু সিক্ত এক স্মৃতির নাম যুথী"

  1. mahsin says:

    অনেক কষ্ট দায়ক লেখা টি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ
© ২০২১ কপোতাক্ষ নিউজ । এই ওয়েবসাইটের কোনো কন্টেন্ট অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি
ডেভলপমেন্ট এন্ড মেইনটেন্যান্স: মোঃ জহির উদ্দীন