1. mohsinlectu@gmail.com : mahsin :
  2. zahiruddin554@gmail.com : Md. Zahir Uddin : Md. Zahir Uddin
বৃহস্পতিবার, ২১ অক্টোবর ২০২১, ১১:৪৯ পূর্বাহ্ন
বিশেষ বিজ্ঞপ্তিঃ
কপোতাক্ষ নিউজে আপনাকে স্বাগতম! (খালি থাকা সাপেক্ষে) দেশের সকল বিভাগ, জেলা, উপজেলা, বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস সহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। যোগাযোগ: ০১৭২৭-৫৬৭৯৭৬

ডিজিটালাইজেশানের যুগে ঘুনে ধরা মনুষত্ব

অজয় কান্তি মন্ডল, ফুজিয়ান, চীন
  • আপডেটের সময়ঃ বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২০
  • ২৯ বার পড়া হয়েছে
‘ফুলন দেবী’ নারী নির্যাতন ও বর্ণবাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে পরবর্তীতে দস্যু রানী ফুলন দেবী নামে আবির্ভূত হয়েছিলেন। নিম্ন বর্ণের মাল্লা সম্প্রদায়ের ঘরে জন্ম গ্রহন করেও ফুলন দেবীর জীবদ্দশায় গণ ধর্ষণের স্বীকার হতে হয়। রাজনৈতিক অঙ্গনে ফুলন দেবী  যখন ক্ষমতার শিখরে অবস্থান করছিলেন তখন ওনার কাছে বারবার ধর্ষণের স্বীকার হওয়ার কারন সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে উত্তরে বলেছিলেন ‘ধর্ষিতা হওয়ার মতো আমার রূপ কোনো কালেই ছিল না। নিম্নবর্ণের একটি মেয়ে কারো খায়েশ হবে সেটা আমি চিন্তাও করতাম না। আমার হাড্ডিসার দেহে মজা লোটার মতো কী থাকতে পারে?’ ওনার কাছে যখন শেষ প্রশ্ন করা হয়েছিল কারা ধর্ষণ করে? ফুলন দেবী উত্তর দিয়েছিলেন ‘ক্ষমতা, আর কেউ নয়’।
হ্যাঁ ক্ষমতাই ধর্ষণ করে। সব ধর্ষকের ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায় ক্ষমতাসীন দলের ছত্রছায়ায় তারা এহেন বর্বরতা নেই যেটা ঘটাতে বিন্দুমাত্র পিছপা হয়না। তারা জানে তাদের কিছুই হবেনা। তাদেরকে মদদ যোগানোর জন্য পিছনে আছে অনেক বড় বড় ক্ষমতাধর ব্যক্তি। তাইতো ধর্ষকরা ঘোষনা দিয়ে সেঞ্চুরি করেও আইনের আওতায় না গিয়ে বীরদর্পে বুক ফুলিয়ে জনসমক্ষে ঘুরে বেড়ায়। এমন ইতিহাস পৃথিবীর অন্য কোন দেশে আছে কিনা আমার জানা নেই। এটায় বাস্তবতা, এটায় রীতি হয়ে গেছে এখন। খাতা কলমে আইন সবার জন্য সমান ভাবে প্রযোজ্য হলেও সেটার প্রয়োগ বাস্তবে ক্ষীণ। আইনের প্রয়োগ শুধুমাত্র নিরীহ জনগনের জন্য।
বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে দেশও আজ এগিয়ে যাচ্ছে। ডিজিটাল দেশ গড়ার প্রত্যয়ে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন সরকার প্রধানরা। বিশ্বের দরবারে দেশের সফলতা ও সুনাম কোন অংশে কম নেই। কিন্তু কি লাভ আমাদের এই ডিজিটাল দেশ দিয়ে? যে দেশের মানুষের জীবনের কোন নিরাপত্তা নেই সেখানে ওই ডিজিটালের ছোয়া যে মূল্যহীন। আমি সহ প্রতিটি কন্যা সন্তানের পিতা আজ সন্তানের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত। সাথে আছে ধর্ষণ পরবর্তী হত্যাযজ্ঞ। এই হত্যার আওতায় বেশি বলি হচ্ছে নিরীহ শিশুরা। বাদ যায়না ছেলে শিশুরাও। ভাবতে অবাক লাগে একটা শিশু যখন প্রকৃতি পরিবেশ বুঝে ওঠার আগেই তাকে মানুষ নামের কিছু নরপিশাচের হাতে জীবন দিতে হয়। চোখ বন্ধ করে একটি বার ভাবুন তো শিশুটি মারা যাওয়ার আগে কি ভেবেছিল? সুস্থ সবল দুনিয়ায় তারও তো বেড়ে ওঠার অধিকার ছিল। ছিল মায়ের কোলে, বাবার আদর স্নেহে বড় হয়ে একদিন দেশের হাল ধরবে, দেশের সুনাম রক্ষায় কাজ করবে এই আশাটুকু। কিন্তু হলনা, নরপিশাচরা তা তাকে করতে দিলনা। নিজের বাচ্চাকে নিয়ে একবার এই বর্বরতার দৃশ্য মনে করলে চোখে জল চলে আসাটায় স্বাভাবিক।
একজন নারীকে যখন জোর পূর্বক সম্ভ্রম হানি করা হয় তখন তাকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে কতটা বেগ পেতে হয় সেটা শুধুমাত্র সেই নারীই জানেন। তাইতো ধর্ষণ পরবর্তী আত্মহত্যাও থেমে থাকে না। যেটুকু মিডিয়ায় আসে সেখান থেকেই আমরা বুঝতে পারি আশপাশে ঘটে যাওয়া বহু ঘটনায় গ্রাম, পাড়ার মোড়ল মাতব্বরেরা ধর্ষিতার গায়ে দোষ চাপিয়ে উপরন্তু লোক জনের সামনে ধর্ষকের আরও কয়েকটা এরকম ঘটনা ঘটানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিচার কাজ শেষ করেন। কেননা ওনারা ও যে ক্ষমতার লোভে লোভান্বিত।
দেশের মুষ্টিমেয় ধার্মিক ব্যক্তিরা নারীদের চলাফেরা, পোষাক পরিচ্ছেদ এবং কর্মক্ষেত্রে নারীর উপস্থিতি কে ধর্ষণ বৃদ্ধির কারন হিসেবে গন্য করে। তারা একবারও ভাবেনা উন্নত দেশগুলো তে নারীর স্বাধীনতা আমাদের দেশের থেকেও অনেক বেশি। যেখানে সারা রাত ধরে একটা মহিলা টি-শার্ট আর হাফ প্যান্ট পরে ঘুরে বেড়ালেও সেখানকার পুরুষ দের লোলুপ দৃষ্টি পড়েনা ওই মহিলার প্রতি। কেননা সেসব জায়গায় ক্ষমতার চেয়ে আইন কে প্রাধান্য দেওয়া হয়। আইনের চোখে সবাই সমান তাই সে হোক যত বড় ক্ষমতাসীন দলের হোক না কেন। এই একটি দিকে নিজর দিলে দেশ থেকে ৯০ ভাগ ধর্ষণ উঠে যেতে বাধ্য। সে হিসাবে যে দেশের মানুষের ধর্ম নিয়ে অত বেশি মাথাব্যাথা নেই সেদেশে ধর্ষণ ও বেশি হওয়ার কথা কিন্তু সেসব দেশে এমন নির্মম বর্বরতা চোখে পড়েনা। তারই উদাহরণ হিসেবে চীনকে এগিয়ে আনা যেতে পারে। নারীরা এখানে অনেক স্বাধীন আর নিরাপদ। তাই গভীর রাত বা একাকী নির্জনে যেকোন নারী মনের ফুর্তিতে স্বাধীন ভাবে ঘুরে বেড়াতে পারে এবং কর্মক্ষেত্রেও তাদের উপস্থিতি অধিক লক্ষ্যনীয়। হবেই না বা কেন এখানে ধর্ষণকারীরা কেউ রেহায় পায়না এবং সাজা হিসেবে  বলবৎ আছে মৃত্যু দন্ড।
নোয়াখালীর ঘটনা সমগ্র দেশে প্রত্যাহ ঘটে যাওয়া অসংখ্য ঘটনার একটির উদাহরণ মাত্র। মিডিয়া ফলাও করে প্রচার করেনা বলেই মানুষ বোঝেনা। তারপরেও যেটুকু আসে সেটুকুতেই আমরা চোখ কপালে তুলি। একবার ও কি আমরা সুস্থ্য সবল মস্তিষ্ক দিয়ে চিন্তা করতে পারি যে এই ঘটনা আমার নিজের মা বোন বউ বা বাচ্চা যেকারও সাথে ঘটতে সময় লাগবেনা। পত্রিকা বা টেলিভিশনে খবর গুলো দেখার পরে আমাদের হা-হুতাশ ছাড়া আর কিছুই করার নেই। কেননা এর বেশি কিছু করতে গেলে আগে পিছে অনেক কিছু ভাবতে হয়।
মেনে নিতে কষ্ট লাগে দেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নারী হওয়ার সত্ত্বেও একজন সাধারন নারীর সম্ভ্রম হারানোর ভয়ে নেই পথে বের হওয়ার স্বাধীনতা, নেই তার সতীত্বের কোন নিশ্চয়তা। এরকম স্বাধীনতা পাওয়ার জন্যই কি দেশ স্বাধীন হয়েছিল? আমরা বলব নিশ্চই না।
পরিশেষে শুধু এটুকু বলব, যার যায় সেই কেবল বোঝে অন্য কেউ তার আবেগ, তার অনুভূতি, তার সম্ভ্রম, তার সতীত্ব ফিরিয়ে দিতে পারবেনা। একটি বার অনুধাবন করার চেষ্টা করুন শুধু ক্ষমতার অপব্যবহারের কারনে আজ মানব সমাজের কতটা অধঃপতন হয়েছে। সেটা শুধুমাত্র ধর্ষক হিসেবে নয়; খুনী, মাস্তান, চাঁদাবাজ আর ছিনতাইকারী হিসাবেও। তাইতো ইতিহাস হয়ে রয়ে যাবে পুরানো ঢাকার বিশ্বজিত, বুয়েটের আবরার, বরগুনার রিফাত হত্যা সহ আরও হাজারো ঘটনা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ
© ২০২১ কপোতাক্ষ নিউজ । এই ওয়েবসাইটের কোনো কন্টেন্ট অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি
ডেভলপমেন্ট এন্ড মেইনটেন্যান্স: মোঃ জহির উদ্দীন