1. mohsinlectu@gmail.com : mahsin :
  2. zahiruddin554@gmail.com : Md. Zahir Uddin : Md. Zahir Uddin
শুক্রবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৭:১৯ পূর্বাহ্ন
বিশেষ বিজ্ঞপ্তিঃ
কপোতাক্ষ নিউজে আপনাকে স্বাগতম! (খালি থাকা সাপেক্ষে) দেশের সকল বিভাগ, জেলা, উপজেলা, বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস সহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। যোগাযোগ: ০১৭২৭-৫৬৭৯৭৬

একদল রোভারের স্মৃতিকথা

মোসা: সখিনা বেগম, দেবিদ্বার
  • আপডেটের সময়ঃ বুধবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২১
  • ৫১ বার পড়া হয়েছে

স্কাউট বিশ্বব্যাপী একটি অরাজনৈতিক স্বেচ্ছাসেবামূলক আন্দোলন।রাবার্ট স্টিভেন্সন স্মিথ লর্ড ব্যাডেন পাওয়েল অব গিলওয়েল।যিনি ১৯০৭ সালের আগস্ট মাসে বিশ্ব স্কাউটের একটুকরো আলো হাতে নিয়েছিলেন। কিন্তু আমি মানি তা জ্বলেছিল১৮৫৭ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি।সে আলো ছড়িয়ে গেলো সবখানে।বাংলাদেশে স্কাউটিং আসে ১৯৭২ সালে।স্কাউটিং এর ৩ টি ধাপ – কাব স্কাউট,স্কাউট,রোভার স্কাউট।

ভালোবাসার আরেক নাম রোভারিং।২০১৪ সাল ডিপার্টমেন্টের সিনিয়র আপু মাহফুজা আপু আর নুজহাত আপুর মাধ্যমে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ রোভার স্কাউট গ্রুপে যাত্রা শুরু। ছোটবেলা থেকে গান আবৃত্তি বিভিন্ন সামাজিক কাজে নিজেকে সম্পৃক্ত করার প্রবল বাসনা আমাকে রোভারিং এ পথ চলতে প্রেরণা দিয়েছে।সহচর থেকে শুরু করে সেবাস্তর মেয়েদের মধ্যে সবসময় ১ম হতাম।মনে হত একদিন সিনিয়র রোভারমেট হব।ঐ দেয়ালে আমার নাম থাকবে। প্রথমে কাউন্সিলর হই,ARM,RM হয়ে দায়িত্ব পালন।এই জার্নি কবে যে ৫ বছর হয়ে গেলো টের পাইনি।জীবনে অর্জিত হয়েছে অনেক মধুর অভিজ্ঞতা। সহচর থেকে প্রীতি,রাসেল,নকিব,নোমান ছিল আমার সবচেয়ে ভালো বন্ধু। সবচেয়ে ভালো বন্ধুত্ব রাসেলের সাথে।ক্রু মিটিং মিস করলেও পড়া মিস হয়নি তাদের কল্যানে।
সহচরের দীর্ঘ সময় পার করে দীক্ষা গ্রহণ।আমার কাছে আনন্দ পূর্ণ পরীক্ষা মনে হয়েছিল।সেদিন SRM আপু আমার হাতে ফিল্ড বুক তুলে দিয়েছিলেন অজানাকে জানার জন্য।আজও সে জানা শেষ হয় নি।তাবুবাস,গেজেড নির্মাণে প্রথম হওয়ার বাসনা।হাইকিং, সাংস্কৃতিক প্রোগ্রামে উপস্থাপনা সব কিছু একেবারে টাইট সিডিউল।সবচেয়ে মজা হয়েছে নাইট হাইকিং। মোমবাতি আর রঙিন পেপার দিয়ে রোডম্যাপ।সিনিয়র ভাই বোনেরা ভূত সেজে ভয় দেখাতে গিয়ে নিজেরা ভয় পাওয়া,ফররুল ভাইয়ের গাছের ডাল ভেংগে পড়ে যাওয়া, সুদীপ্তের তবলা বাজানো,দীন ইসলাম ভাইয়ের মন্দিরা বাজানো আর নেক ডান্স,সালোকিন ভাইয়ের নাচ,মাহবুব ভাইয়ের গান, বাপ্পী ভাইয়ের আদরমাখা ধমক রোমান্সকর বিষয়। তাছাড়া আকলিমা, জুমু আমার বেচ মেট ছিল।রোভারিং এ সিনিয়র ছিল তার পরও আপনি বলতে পারিনি।ছোটদের মধ্যে মিলি,শান্তা,ইয়াসমিন,মাহমুদা, হানী,রাবেয়া,মুন্নী, তুহিন সৈকত,ফারুক, মবিন,সাইদুল,রবিউল মেহেদী সবাইকে অনেক শাসন করতাম,আবার ভালোও বাসতাম।অয়ন মল্লিক যদিও আমার কলেজের ছিল না কিন্তু আপু বলে জান প্রাণ দিত।তারপর ক্যাম্প কোর্স শুরু। মেট কোর্সে সবাই ছিলাম নতুন।আমাদের ভালো অভিজ্ঞতা ছিল বলে কোন সমস্যায় পরতে হয় নি। বেসিক,এডভান্স,স্কিল প্রতিটি কোর্স ছিল শিক্ষকদের সাথে।সকল কাজে তাদের অংশগ্রহণ ছিল চমৎকার আক্তার স্যার,রিপন স্যারের সাথে সবচেয়ে ভালো সময় কাটে।রাছেল আমার সব কোর্সের সঙ্গী ছিল।রাছেলের চমৎকার গান “ঢাকা টু খুলনা একটু ভালোবাসো না নেই তো কোন ভাবনা নিয়ে যাব পাবনা” ফারুক স্যার বলেছিল লোম বাছতে কম্বল উজার।
তাছাড়া মুজিব স্যারের গান অসাধারণ ছিল।”সাঁওতাল বানাইছে ভগবান” গানটা মনে হয় কানে বাজে।ডেনের সিংগারা কেউ ভুলবে না।আমি তো কোন ভাবেই না।কেননা সবার শেষে অবশিষ্ট গুলো হোস্টেলে নিয়ে গিয়ে বন্ধবীদের নিয়ে মজা করে খেতাম।জেলা মুট, কমডেকা,আঞ্চলিক মুট,শতবর্ষ রোভার মুট।প্রতিটি মুট ছিল রোভার স্কাউটার দের মিলন মেলা।সকালের পিটি ভীষণ মিস করি।কুয়াশার চাদরে ঘেরা সকাল এত জন একসাথে বিশাল ব্যাপার।গাজীপুরের শতবর্ষ রোভার মুটে বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কে ভ্রমণ।আফ্রিকার কালো চিতার দর্শন, জিরাফ, টাইগার, সিংহ,সাপ মনোমুগ্ধকর। ইলিশের বাড়ি চাদপুরে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নৈকট্য পাওয়া।ইলিশ খাওয়া ভীষণ মনে পড়ে।দিনে প্রচন্ড গরম আর রাতে মেঘনার শিতল বাতাস মনে দোয়া দেয়।
ফিল্ড বুক কম্পাস দেখে ঘনঘোর রাত্রিতে অচেনা রাস্তায় হেটে চলছি কখনও পান বড়জ কখনও জমি কখনওবা সরু রাস্তা, বিপদজনক স্থানে মশালের পথ ।একটু ভুল হলে রাস্তা হারানোর শংকা।তবে সে শংকা বেশি ছিল না। গ্রামের মানুষগুলোর আন্তরিকতা,পানি খাওয়ানো আমার হৃদয় আনন্দে ভরে গেছে।সমাজ সেবায় রাস্তা মেরামত,বীজ লাগানা ব্রীজ মেরামত,হাত ধোয়ানো,গাছ লাগানো,মোটিভেশনাল প্রচারণা কত কি করেছে রোভারগন।রোভার ডেনে উপস্থাপনা, গান,আবৃত্তি কত কি করেছি।ক্যাম্প হলে বাঁশ কাটা গ্যাজেড বানানো সব কিছু করেছি বিজয় পতাকার জন্য।রোভারগন জানে বিজয় পতাকা কতটা সম্মানের।কাজ করতে করতে অসময়ে খিদা লাগলে জাবেদ ভাইকে কতই না অনুরোধ করেছি।আমার জন্য সবাইকে খাওয়াতে হত।হজ্ব ক্যাম্প অসাধারণ স্মৃতি বিজরিত। জীবনের শেষ বয়সে হজ্ব করতে আসা মন ভোলা মানুষ গুলো।কখনও ব্যাগ কোথায় রাখে মনে থাকে না।চলে খুঁজে দেওয়ার প্রচেষ্টা। তারপর চলে ভালোবাসা বিতরণ,দোয়ার বর্ষা।

রোভারিং এর দীর্ঘ যাত্রা আমাকে বাংলাদেশকে চিনিয়েছে।সৌন্দর্য আসলে উপভোগের বিষয়। সুন্দর বনের সুন্দরী গাছ,সমূদ্রের ঢেউ,পিলপিল সেভেন্টিন,কুয়াকাটা,শুটকি বাজার,মহামায়া ঝর্ণা,বাঁশবাড়ীয়া সী বীচ,বাগেরহাটের খান জাহান আলীর মাজার, ষাট গুম্বজ মসজিদ,মংলা বন্দর,জাতির পিতার সমাধি,স্মৃতি এ্যালবাম, চাদপুর।মুন্সিগঞ্জের ফেরিঘাটে রাত দুইটায় কনকনে ঠান্ডায় জমে যাওয়া অবস্থায় গরম ভাত ইলিশ ভাজা খাওয়া রোভারিং না করলে উপভোগ করতে পারতাম না।
রোভারিং শিখিয়েছে হোঁচট খেয়ে পড়লে কি করে উঠতে হয়,বড় ছোট সবার সাথে বন্ধুত্ব গড়া যায় কি করে,শত কষ্ট ভুলা যায় কি করে।অনেকের কাছে আমি উদ্যমী,আমি তাদের অনুপ্রেরণা।অনেকের ভালোবাসার সখি।মঙ্গল শোভাযাত্রা, র‍্যালী,প্রভাত ফেরী,বিজয় র‍্যালী,কর মেলায় ডিউটি, সামাজিক সচেতনতা তৈরিতে রোভারদের অংশগ্রহণ নির্ধারিত।

ট্রাফিক সপ্তাহে ড্রাইভারদের আন্তরিকতা দেখেছি।স্যালুট দিয়েছে রোভারদের।
আমি একজন রোভার এটা আমার কাছে গর্বের বিষয়।ভালোবাসি বাংলাদেশ,আর ভালোবাসি রোভারিং।শুভকামনা রোভার স্কাউট
শুভ কামনা কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ রোভার স্কাউট গ্রুপ

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ
© ২০২১ কপোতাক্ষ নিউজ । এই ওয়েবসাইটের কোনো কন্টেন্ট অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি
ডেভলপমেন্ট এন্ড মেইনটেন্যান্স: মোঃ জহির উদ্দীন