1. mohsinlectu@gmail.com : mahsin :
  2. zahiruddin554@gmail.com : Md. Zahir Uddin : Md. Zahir Uddin
শুক্রবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০২১, ১১:০০ পূর্বাহ্ন
বিশেষ বিজ্ঞপ্তিঃ

কপোতাক্ষ নিউজে আপনাকে স্বাগতম! (খালি থাকা সাপেক্ষে) দেশের সকল বিভাগ, জেলা, উপজেলা, বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস সহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। যোগাযোগ: ০১৭২৭-৫৬৭৯৭৬

কুলাউড়ায় খাসিয়াপুঞ্জি-বন বিভাগ বিরোধ মেটাতে ‘সম্প্রীতি সমাবেশ

মো: রেজাউল ইসলাম শাফি, কুলাউড়া উপজেলা প্রতিনিধিঃ
  • আপডেটঃ বুধবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২১
  • ৫৪ বার পড়া হয়েছে

কুলাউড়া উপজেলার কর্মধা ইউনিয়নে মুরইছড়া বনবিট এলাকায় সামাজিক বনায়নকে ঘিরে বাঙালি উপকারভোগী ও খাসিদের মধ্যে চলমান দ্বন্দ্ব নিরসনের উদ্যোগ নিয়েছে জেলা প্রশাসন। উভয়পক্ষকে সামাজিক বনায়নের উপকার ভোগ করে সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক ও জেলা পুলিশ সুপার। ৭ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার কর্মধা ইউনিয়নে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী কমিউনিটি সেন্টারে উপজেলা প্রশাসন এ সম্প্রীতি সমাবেশের আয়োজন করে। সমাবেশে বন বিভাগ, স্থানীয় আদিবাসী জনগোষ্ঠী, সামাজিক বনায়নের উপকারভোগী বাঙালি প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। খাসিসহ আদিবাসীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে সামাজিক বনায়ন সঠিকভাবে বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসক সাত সদস্যের একটি কমিটিও করে দেন।

সমাবেশে বন বিভাগের পক্ষ থেকে বলা হয়, কুলাউড়া উপজেলার সংরক্ষিত বনাঞ্চলে আগে বাঁশ ছিল। সেই বাঁশের পরিবর্তে এখন আছে পান। চারটি বাঁশমহাল বিলুপ্ত হয়ে গেছে। সামাজিক বনায়নেও আসছে বাধা। সরকার সিলেট বন বিভাগে ‘পুনঃবনায়ন ও অবকাঠামো উন্নয়ন’ নামে প্রকল্প গ্রহণ করেছে, যার কার্যক্রম শুরু হবে বলেও বন বিভাগ থেকে সমাবেশে জানানো হয়।

খাসি জনগোষ্ঠীর পক্ষ থেকে বলা হয়, বংশপরম্পরায় পান চাষ করে তারা জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। বন বিভাগ সামাজিক বনায়ন করুক, এটা তারাও চান। পাহাড়ের জমি বনভূমির হলেও আদিকাল থেকে বসবাস করা জনগোষ্ঠীকে উচ্ছেদ করা যায় না। এটি জাতিসংঘ সনদ ও আইএলও কনভেনশনের স্পষ্ট লঙ্ঘন। আন্তর্জাতিক এসব আইন এবং দেশের সংবিধান উপেক্ষা করে সামাজিক বনায়নের নামে পাহাড়ে বসবাসরত জনগোষ্ঠীকে উচ্ছেদ চালিয়ে যাচ্ছে বন বিভাগ। তারা উচ্ছেদের পাঁয়তারা বন্ধ, মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারসহ খাসিদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানান।

সমাবেশে বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জাকারিয়া। তিনি বলেন, ‘এই বন রাষ্ট্রের, এই বন বন বিভাগের। বনে বসবাসের অনুমতি দেওয়া হয়েছে, মালিকানা দেওয়া হয় নাই। আমরা রাষ্ট্রের বিধির আলোকেই দায়িত্ব পালন করব। অতি উপকারভোগী হয়ে খাসিদের ওপর হামলা সহ্য করা হবে না। সব নাগরিকের নিরাপত্তা দেওয়া আমাদের দায়িত্ব।’

খাসি জনগোষ্ঠীকে উদ্দেশ করে পুলিশ সুপার বলেন, ‘পান চাষে রাষ্ট্র কী পাচ্ছে। রাষ্ট্রের কাছ থেকে সকল সুযোগ-সুবিধা ভোগ করছেন, কিন্তু রাষ্ট্রকে কয় টাকা রাজস্ব দিচ্ছেন? আইন হাতে তুলে নিলে বড় ভুল হবে। স্থানীয় বিষয় আন্তর্জাতিক ইস্যু না বানিয়ে স্থানীয়ভাবে সমাধানের চেষ্টা করবেন। আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে চললে রাষ্ট্র আপনাদের পাশে থাকবে। অবশ্য ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে।’প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসান বলেন, ‘লংলা পাহাড়ে ১০৫ নম্বর দাগের মোট ২৮৬ একর জায়গার ১৪৫ একর নিয়ে আদালতে মামলা চলমান। এই জায়গা নিয়ে কোনো কথা নেই। বাকি ১৪১ একরের ছোট কালাইগিরি ২৫ একর জায়গায় উপজেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে সামাজিক বনায়ন চলবে স্থানীয় খাসি ও বাঙালিদের নিয়ে। এতে খাসিরা কোনো বাধা দিতে পারবে না। আর খাসিরা সমতলে আসার পথে বাঙালিরা বাধা দিতে পারবে না। এমন কিছু হলে শক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ সামাজিক বনায়নের উপকারভোগী বাছাইয়ে বন বিভাগের কড়া সমালোচনা করেন জেলা প্রশাসক।

কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এটিএম ফরহাদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন উপজেলা চেয়ারম্যান একেএম সফি আহমদ সলমান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি রফিকুল ইসলাম রেনু, কর্মধা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান এমএ রহমান আতিক, পৃথিমপাশা ইউপি চেয়ারম্যান নবাব আলী বাকর খান, বন বিভাগের পক্ষে রেঞ্জ অফিসার রিয়াজ উদ্দিন, খাসিদের পক্ষে ফ্লোরা বাবলী তালাং এবং উপকারভোগীদের পক্ষে হারিছ আলী।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ
© ২০২১ কপোতাক্ষ নিউজ । এই ওয়েবসাইটের কোনো কন্টেন্ট অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি
ডেভলপমেন্ট এন্ড মেইনটেন্যান্স: মোঃ জহির উদ্দীন