1. mohsinlectu@gmail.com : mahsin :
  2. zahiruddin554@gmail.com : Md. Zahir Uddin : Md. Zahir Uddin
সোমবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২২, ০৯:৩০ পূর্বাহ্ন
বিশেষ বিজ্ঞপ্তিঃ

কপোতাক্ষ নিউজে আপনাকে স্বাগতম! (খালি থাকা সাপেক্ষে) দেশের সকল বিভাগ, জেলা, উপজেলা, বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস সহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। যোগাযোগ: ০১৭২৭-৫৬৭৯৭৬

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ৩ যুগ মুরাদনগরের এই ২ প্রতিষ্ঠান

রিপোর্টার
  • আপডেটঃ শুক্রবার, ১৪ জানুয়ারী, ২০২২
  • ৩৩ বার পড়া হয়েছে

আলমগীর হোসেন মুরাদনগর প্রতিনিধি:সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি যেখানে কুলুষ্ঠিত সেখানে এক অনবদ্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর উপজেলার নবীপুর পশ্চিম ইউনিয়ন দুই ব্যতিক্রমধর্মী প্রতিষ্ঠান। ১৯৩১ সালে প্রতিষ্ঠিত সনতন ধর্মের অযাচক আশ্রম। একই সীমানা ঘেঁষে মুসলমান ধর্মালম্বীদের প্রতিষ্ঠান রহিমপুর হেজাজীয়া এতিমখানা ও হাফেজিয়া মাদ্রাসা। ১৯৮৬ সালে মাত্র ১০ জন ছাত্র নিয়ে যাত্রা শুরু হয় এই মাদ্রাসাটির। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিতে তিনশ পঞ্চাঁশেরও বেশি ছাত্র রয়েছে। সন্ধ্যায় মন্দিরে বাজে ঘন্টা অপরদিকে মাদ্রাসা মসজিদে হয় সুমধুর সুরে আজান। আশ্রমে সকালে চলে সমবেত প্রার্থনা আর হাফেজিয়া মাদ্রাসায় ছাত্ররা দরদ দিয়ে ধারাজ কন্ঠে তেলাওয়াত করেন আল-কোরআন। এ যেন একই বৃন্তে দুটি কুসুম হিন্দু-মুসলমান। প্রায় ৩৬ বছর পথ চলা ওই দুটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে ভাতৃত্বের দৃষ্টান্ত স্থাপন করা  প্রতিষ্ঠান দুটি এ উপজেলার রহিমপুর গ্রামে অবস্থিত।

মুরাদনগর বেসরকরী এতিম কল্যাণ পরিষদের সেক্রেটারি ও হেজাজীয়া এতিমখানা এবং হাফেজিয়া মাদ্রাসার পরিচালক কাজী লোকমান বলেন, ‘হাকিম মাওলানা মোবারক আলী হেজাজী ১৯৮৬ সালে এতিমখানা মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৯৫ সাল থেকে একশ আটচল্লিশ জন ছাত্র সমাজ সেবা কর্তৃক অনুদান পাচ্ছে। দশ জন ছাত্র নিয়ে শুরু হলেও বর্তমানে ছাত্র সংখ্যা তিনশ পঞ্চাশ। ১৬জন শিক্ষক ১জন অফিস সহকরি ও ৪জন বাবুর্চি কর্মরত আছে এ প্রতিষ্ঠানে। বড় এই প্রতিষ্ঠানটির সিমানা ঘেঁষে রয়েছে সনাতন ধর্মের অযাচক আশ্রম। তিন যুগের বেশি সময় আমরা পাশা-পাশি আছি। একদিনের জন্যও একে অপরের ধর্মীয় কাজে কোন কারণে ব্যঘাত ঘটেনি। অধ্যক্ষ মানবেন্দ্র সাহেবের আশ্রমে মাঘ মাসের পাঁচ, ছয় ও সাত এই তিন দিন ব্যাপি বাৎসরিক ‘আগমনী উৎসব’ অনুষ্ঠিত হয়। যেখানে ভারত তথা বিভিন্ন দেশের ভক্ত-বৃন্দ আসেন। প্রতিটা অনুষ্ঠানের প্রারম্ভে আমরা একে অন্যের সাথে আলাপের মাধ্যমে আমাদের ধর্মীয় অনুষ্ঠানগুলো সম্পন্ন করে থাকে। তিনি আরও বলেন, ইসলাম শান্তির ধর্ম। আর অন্য ধর্মালম্বীরা আমাদের কাছে আমানত। তাই সাম্প্রদায়িক সম্প্রতির বন্ধন অটুট রেখেই আমরা প্রতিষ্ঠানের সকল কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি।

অযাচক আশ্রমের অধ্যক্ষ ডা: মানবেন্দ্র নাথ সরকার বলেন,‘ অখন্ডমন্ডলেশ্বর শ্রী শ্রীমৎ স্বামী স্বরূপানন্দ পরমহংসদেব ১৯৩১ সালে অযাচক আশ্রমটি প্রতিষ্ঠা করেন। আমি ১৯৭৯ সালে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাস করে ১৯৯৪ সালে এই আশ্রমে যোগদান করি। বর্তমানে এখানে ৫জন সেবক ও ৩০ জন ছাত্র রয়েছে। তবে দেশের বিভিন্ন স্থানে এই আশ্রমের শাখা আছে। আমরা সবাই নিরামিষভোজী। আশ্রমের পুকুরের মাছ ও সব্জি চাষ থেকে আসা আয় দিয়ে খরচ চলে যায় আমাদের। সকালে সমবেত প্রার্থনা ও বাকি সময় বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবায় দিন চলে যায়। প্রতিদিনই কয়েকশ লোকের সমাগম হয় আশ্রমে। উল্লেখ্যযোগ্য বিষয় হলো এ প্রতিষ্ঠানের ওয়ালের ওপাশেই রয়েছে এতিমখানা মাদ্রাসা ও মসজিদ। এতে কারোরই কোনো প্রতিবন্ধকতা নেই। পারস্পরিক সহনশীলতা নিয়ে ধর্ম-কর্ম করার উজ্জ্বল উদাহরণ হচ্ছে আমাদের এই দুই প্রতিষ্ঠান। আমরা পারস্পরিক সহনশীলতার চর্চা করি। একবার তাদের মাহফিলের সময় আমাদের অনুষ্ঠানের ডেট পরে গেলে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে তারা সেই তারিখটি পরিবর্তন করে এবং আমাদের বাৎসরিক ‘আগমনী উৎস’বে বিভিন্ন দেশ থেকে ভক্তরা আসলে তখন গ্রামবাসী ও মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ আমাদের নিরাপত্তা ও সেবার ব্যবস্থা করেন।

মুরাদনগর জামিয়া ইসলামিয়া মুজাফফারুল উলূম মাদ্রসার প্রিন্সিপাল ও শাইখুল হাদিস মুফতি আমজাদ হোসাইনের কাছে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আল্লাহপাক ও রাসূল করীম সাল্লাল্লাহু আলাই সালাম বিধর্মীদের জান-মাল ও আব্রæ হস্তক্ষেপের অনুমতি কোথাও দেননি বরং তাদের জান-মালের নিরাপত্তার বিঘœ ঘটালে তা হবে ইসলামী শিক্ষার বিপরিত কাজ। রাসূল (সা:) বলেছেন, প্রকৃত মুমিন সে, যার অনিষ্ট থেকে অন্য মানুষ নিরাপদ থাকবে। সুতরাং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায়ে চলার কোন বিকল্প নেই।

স্থানীয় সংসদ সদস্য ইউসুফ আব্দুল্লাহ হারুন এফসিএ’র কাছে এই বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অযাচক আশ্রমের অধ্যক্ষ ডাক্তার মানবেন্দ্র নাথ সরকার বঙ্গবন্ধু কৃষি ও সাদা মনের মানুষ হিসাবে পুরস্কৃত হয়েছেন। তাঁর সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হচ্ছে, তিনি বিনা মূল্যে চিকিৎসা সেবা দেন এবং আমার জানা মতে তিনি এই পর্যন্ত পাঁচ লক্ষাদিক মানুষকে সেবা দিয়েছেন। অপর দিকে উপজেলার বেসরকারী এতিম কল্যাণ পরিষদের সেক্রেটারী ও হেজাজীয়া এতিমখানা এবং হাফেজিয়া মাদ্রাসার পরিচালক কাজী লোকমান বড় মনের অধিকারী। এ দুই প্রতিষ্ঠানের মাঁঝ খানে একটি ওয়াল থাকলেও তাদের মানসিকতায় কোনো দেয়াল নেই। আশ্রমের আগমনী উৎসবে আমাকে প্রধান অতিথি করা হয়, আমি সে অনুষ্ঠানে যাই। আবার প্রায়ই আমি ওই এতিমখানার ছাত্রদের সাথে দুপুরের খাবার খাই। তাদের মধ্যে যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিরাজ করছে তা অনুসরণীয় ও অনুকরণীয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ
© ২০২১ কপোতাক্ষ নিউজ । এই ওয়েবসাইটের কোনো কন্টেন্ট অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি
ডেভলপমেন্ট এন্ড মেইনটেন্যান্স: মোঃ জহির উদ্দীন