কপোতাক্ষ নিউজে খালি থাকা সাপেক্ষে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। অতিস্বত্তর সম্পাদকের সাথে যোগাযোগ করুন।

শ্যামনগরে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও সুন্দরবন দিবসের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির দাবীতে মানববন্ধন

শ্যামনগরে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও সুন্দরবন দিবসের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির দাবীতে মানববন্ধন

পরিতোষ কুমার বৈদ্য,শ্যামনগর(সাতক্ষীরা) প্রতিনিধিঃ  শ্যামনগরে বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনকে রক্ষায় সুন্দরবন দিবস উদযাপন কমিটির আয়োজনে জনসচেতনতা সৃষ্টি, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও সুন্দরবন দিবসের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির দাবীতে নীলডুমুরে ট্যুরিস্ট ঘাটে সকাল ১১ টায় মানববন্ধনে যুক্ত হন ফেইথ ইন অ্যাকশন, সুন্দরবন ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা), ব্রেকিং দ্যা সাইলেন্স, হেড সংস্থা, কোডেক, এ.এল.আর.ডি, প্রাণসায়ের ও পরিবেশ সুরক্ষা মঞ্চসহ বিভিন্ন সংগঠন।

সারা বিশ্বে ১৪ ফেব্রুয়ারির দিনটি ভালোবাসা দিবস হিসেবে উদযাপিত হয়। তবে সুন্দরবনসংলগ্ন উপকূলের মানুষেরা দিনটিকে 'সুন্দরবন দিবস' হিসেবে পালন করেন। প্রতি বছরের মতো আজ ১৪ ফেব্রুয়ারি পালিত হচ্ছে সুন্দরবন দিবস। বিশ্বের সর্ববৃহৎ ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন আমাদের প্রাকৃতিক ঐতিহ্যের এক অমূল্য সম্পদ।

উক্ত মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন হেড সংস্থার নির্বাহী পরিচালক লুইস রানা গাইন, ব্রেকিং দ্যা সাইলেন্সের প্রকল্প কর্মকর্তা আব্দুল খালেক, ফেইথ ইন অ্যাকশনের প্রকল্প কর্মকর্তা পরিতোষ কুমার বৈদ্য, হেড সংস্থার কর্মসূচি কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম অন্তর, প্রিন্স বিশ্বাস, জয়া বিশ্বাস, ইয়ুথ লিডার হৃদয় মন্ডল, সোনিয়া পারভিন, শাহনাজ পারভিন, কোডেক লিডার শামীম হোসেন, ভুক্তভোগী নারী সকিনা খাতুন ও ফেইথ ইন এ্যাকশনের হৈমী মন্ডলসহ অনেকে।

সবুজ বনই জীবনের ঢাল, সুন্দরবন বাঁচুক চিরকাল'—এই প্রতিপাদ্য নিয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে স্থানীয় উপকূলীয় জনপদের বিভিন্ন বয়সী মানুষ ও পরিবেশবাদী সংগঠনের সদস্যরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। সমগ্র আয়োজনের সভাপতিত্ব করেন সুন্দরবন দিবস উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক শরীফুল্লাহ কায়সার সুমন এবং সঞ্চালনা করেন সুন্দরবন ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক আফজাল হোসেন।

প্রাণ সায়ের ও পরিবেশ সুরক্ষা মঞ্চ এর সাধারণ সম্পাদক শরীফুল্লাহ কায়সার সুমন বলেন, বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবন কেবল প্রাকৃতিক সম্পদ নয়এটি দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কোটি মানুষের জীবন ও সম্পদের প্রধান রক্ষাকবচ; তাই এর জীববৈচিত্র্য রক্ষায় আলাদা মন্ত্রণালয় গঠন সময়ের দাবি।সুন্দরবন ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শেখ আফজাল হোসেন সুন্দরবনে বিষ প্রয়োগে মাছ ধরা বন্ধ, বন্যপ্রাণী নিধন রোধ এবং নদী-খালে প্লাস্টিক দূষণ বন্ধে কঠোর নজরদারির আহ্বান জানান।

 ব্রেকিং দ্যা সাইলেন্সের প্রকল্প কর্মকর্তা আব্দুল খালেক বলেন, উপকূলবাসীর নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে সুন্দরবন সংরক্ষণ এখন জাতীয় অগ্রাধিকার হওয়া জরুরি।ফেইথ ইন অ্যাকশনের প্রকল্প কর্মকর্তা পরিতোষ কুমার বৈদ্য বলেন, সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষা না করলে উপকূলের সামাজিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা হুমকিতে পড়বে।হেড সংস্থার কর্মসূচি কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম অন্তর বলেন, স্থানীয় মানুষ ও তরুণদের সম্পৃক্ত করেই টেকসইভাবে সুন্দরবন রক্ষা সম্ভব।অনুষ্ঠানজুড়ে বক্তারা বননির্ভর দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টি, পরিবেশ রক্ষায় সচেতনতা বৃদ্ধি এবং স্থানীয় যুবসমাজকে সরাসরি সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে 'গোপন' নিয়োগ : আইনের তোয়াক্কা না করেই ৬০ জনের চাকরি

 রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে 'গোপন' নিয়োগ : আইনের তোয়াক্কা না করেই ৬০ জনের চাকরি


রাজশাহী প্রতিনিধি : ​দেশের শিক্ষা প্রশাসনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে আইনের তোয়াক্কা না করে এক ‘বিস্ময়কর’ নিয়োগ সম্পন্ন করার অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ ছাড়পত্র ছাড়াই রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) অত্যন্ত গোপনীয়তার সাথে চতুর্থ শ্রেণির বিভিন্ন পদেপ্রায় ৬০ জন দৈনিক মজুরিভিত্তিক (ডেলি লেবার) শ্রমিককে স্থায়ী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগ উঠেছে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা ও বোর্ডের নিজস্ব বিধিমালা লঙ্ঘন করে কোটি কোটি টাকার বিনিময়ে এই বিশাল নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছেন বোর্ড চেয়ারম্যান প্রফেসর আখম মোফাকখারুল ইসলাম ও সচিব প্রফেসর ডঃ শামীম আরা চৌধুরী এবং প্রেষণে কর্মরতডিডিসহ একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট। অনুসন্ধানে জানা যায়, সুপ্রিম কোর্টের আপিল মামলা নং ৩০০/২০১৫-এর রায় অনুযায়ী, পদ শূন্য হলে বিজ্ঞাপন (Advertisement) দিয়ে এবং দৈনিক মজুরদের বয়স শিথিল করে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড কোনো প্রকার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ ছাড়াই এবং সাধারণ চাকরিপ্রার্থীদের সুযোগ না দিয়ে এই নিয়োগ সম্পন্ন করেছে।এমনকি বোর্ডের নিজস্ব প্রবিধান ‘এস আর ৬৫’-এর ২ নং ধারাকে সরাসরি উপেক্ষা করা হয়েছে। নিয়মানুযায়ী কোনো নিয়োগের ক্ষেত্রে সিলেকশন কমিটির সুপারিশ বাধ্যতামূলক হলেও এক্ষেত্রে কোনো কমিটির তোয়াক্কা করা হয়নি।

সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, বোর্ডের প্রশাসনিক দপ্তরের কর্মকর্তাদের সম্পূর্ণ অন্ধকারে রেখে তড়িঘড়ি করে সচিব ও চেয়ারম্যানের কক্ষে বসেই নিয়োগ ও যোগদানপত্র প্রদান করা হয়েছে।​সূত্রমতে, এই পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়ার প্রধান কারিগর হিসেবে কাজ করেছেন ‘মামুন’ নামের এক দৈনিক মজুরিভিত্তিক শ্রমিক। অভিযোগ আছে, চেয়ারম্যান ও সচিব এই মামুনের মাধ্যমেই যাবতীয় আর্থিক লেনদেন এবং বোর্ড সভার ভুয়া রেজুলেশন তৈরি করেছেন। সংস্থাপন শাখার কর্মকর্তাদের এড়িয়ে নিয়োগ ও যোগদানপত্র সরাসরি চেয়ারম্যানের কক্ষে সংরক্ষিত রাখা হয়েছে।বোর্ডের ভেতরে গুঞ্জন রয়েছে, এই ৬০ জনের নিয়োগের বিনিময়ে কয়েক কোটি টাকার অবৈধ লেনদেন হয়েছে।নিয়োগপ্রাপ্তদের প্রায় সবাই বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দৈনিক মজুর হিসেবে বোর্ডে যোগদান করেছিলেন। বর্তমান সরকারের চোখ ফাঁকি দিয়ে এবং স্থানীয় সংসদ সদস্যকে কোনো প্রকার অবহিত না করেই এই ‘অপারেশন’ চালানো হয়েছে।

​দুর্নীতি ঢাকতে প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় ব্যাপক জালিয়াতির আশ্রয় নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। নিয়োগ পত্রে স্মারক নম্বর হিসেবে ৭৪৯ ও ৭৫০ ব্যবহার করা হলেও বোর্ডের মূল স্মারক বইয়ে (Dispatch Register) এর কোনো এন্ট্রি নেই। মূলত আইনি জটিলতা এড়াতে এবং তথ্য গোপন রাখতে এই কৌশল নেওয়া হয়েছে।এই নিয়োগ কেলেঙ্কারিতে চেয়ারম্যান ও সচিব ছাড়াও প্রেষণে নিয়োজিত বেশ কয়েকজন কর্মকর্তার নাম উঠে এসেছে। এদের মধ্যে কলেজ পরিদর্শক, স্কুল পরিদর্শক এবং উপ-পরিচালক (ডিডি) সরাসরি এই সিন্ডিকেটের সাথে জড়িত বলে অভিযোগ উঠেছে।এদিকে, কোনো প্রকার শিক্ষাগত যোগ্যতা যাচাই ছাড়াই এই ৬০ জনকে নিয়োগ দেওয়ায় বোর্ডের নিয়মিত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।​রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের এই নজিরবিহীন অনিয়ম নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের তদন্ত দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা।জানতে চাইলে সচিব প্রফেসর ডঃ শামীম আরা চৌধুরী বলেন ফ্যাসিস্ট বিদায়ের পর আমরা শিক্ষা বোর্ডে একটা সংষ্কার করতে এসেছিলাম। সে অনুযায়ী আমরা সচ্ছতার সঙ্গে কাজ করেছি।বোর্ড চেয়ারম্যান নিজ ক্ষমতা বলে চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী নিয়োগ দিতে পারে, যা বোর্ড সভায় অনুমোদন সাপেক্ষে হতে হয়। নিয়ম মেনে এ নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়েছে। অভিযোগকারীরা এ নিয়োগে সুবিধা করতে না পেরে মিথ্যা প্রোপাগাণ্ডা ছড়াচ্ছে বলেও উল্লেখ্য করেন তিনি।কথা বলতে একাধিকবার ফোন ও ম্যাসেজ দিয়েও পাওয়া যায়নি রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যান প্রফেসর আখম মোফাকখারুল ইসলামকে। এ কারণে তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।লেনদেনে অভিযুক্ত ডে লেবার মামুনকে ফোন দেওয়া হলে তিনি সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে ফোন কেটে দেন।

মোহনগঞ্জে জমি নিয়ে দ্বন্দে চাচাতো ভাইদের মধ্যে সংঘর্ষে নারীসহ আহত-১৫

 মোহনগঞ্জে জমি নিয়ে দ্বন্দে চাচাতো ভাইদের মধ্যে সংঘর্ষে নারীসহ আহত-১৫

মোহনগঞ্জ (নেত্রকোনা) প্রতিনিধিঃ নেত্রকোণার মোহনগঞ্জে জমির আইল নিয়ে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে ৪ নারীসহ অনন্ত ১৫ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।আজ রোববার সকাল ৯টার দিকে উপজেলার ১নং বড়কাশিয়া-বিরামপুর ইউনিয়নের কচুয়ারচর নয়াবাড়ি গ্রামের সোহেল মিয়া ও তার চাচাতো ভাই জুলহাস মিয়ার লোকজনের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ আনে।গুরুতর আহত অবস্থায় সোলেমা আক্তার (২৫),সেলিম মিয়া (৪০), খোকন মিয়া (৪৫), সোহেল মিয়া (৪০), শামীম মিয়া (২৩) নামে ৫ জনকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। এছাড়া হাসপাতালে সরজমিনে গিয়ে খোঁজ নিয়ে জানাযায়, বাকিরা মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বাড়ি চলে গিয়েছেন। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত উক্ত ঘটনায় মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কোনো রোগীর ভর্তীর তথ্য পাওয়া যায়নি। সোহল মিয়া (৪০) ও জুলহাস মিয়া (৩৫) তারা দুইজন সম্পর্কে আপন চাচাতো ভাই।হাসপাতাল, পুলিশ ও স্থানীয় এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার কচুয়ারচর (নয়াবাড়ি) গ্রামের বাসিন্দা সোহেল মিয়া ও তার আপন চাচাতো ভাই জুলহাস মিয়াদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে পৈতৃক জমির ভাগবাটোয়ারাসহ বিভিন্ন বিষয়াদি নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। এরই জের ধরে রোববার সকাল সাড়ে আটটার দিকে সোহেল মিয়া তার লোকজনদের নিয়ে বাড়ির পাশের বিরোধপূর্ণ একটি জমিতে গিয়ে ওই জমির আইল কাটা শুরু করেন। পরে খবর পেয়ে প্রতিপক্ষের জুলহাস মিয়া তার লোকজন নিয়ে সেখানে গিয়ে সোহেল মিয়াসহ তার লোকজনদের বাধা দেন। এ নিয়ে দুই পক্ষের লোকজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটির এক পর্যায়ে সংঘর্ষ বাধে। সংঘর্ষে প্রতিপক্ষের ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোঁটার আঘাতে উভয় পক্ষের ৪ নারীসহ কমপক্ষে ১৫ জন গুরুতর আহত হন।মোহনগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. হাফিজুল ইসলাম হারুন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ বিষয়ে কোন অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

বসুন্দিয়ায় শিকল কেটে সাড় তিন লক্ষ টাকার গরু চুরি

বসুন্দিয়ায় শিকল কেটে সাড় তিন লক্ষ টাকার গরু চুরি


মোঃ মুরাদ হোসেন, বসুন্দিয়া (যশোর) সংবাদদাতা : যশোর সদর উপজেলার বসুন্দিয়া ইউনিয়নের পদ্মবিলা গ্রামে গভীর রাতে গোয়াল ভেঙে ও শিকল কেটে দরিদ্র কৃষকের বাছুর সহ ৩টি গরু চুরি করেছে চোর চক্র।শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টায় পদ্মবিলা গ্রামের সরদার পাড়ার মিনহাজ সরদারের বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে। সরেজমিনে জানা যায়, স্থানীয় মৃত আবু তাহের সরদারের ছেলে মিনহাজ সরদার একজন দরিদ্র চাষী। তিনি কৃষি কাজ করে পরিবারের চাহিদা মেটান।, অর্থনৈতিক ভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার জন্য গরু পালন করেন। তার গোয়ালে ২টা গাভী ছিল। দৈনিক দুধ দিত, যা দিয়ে সচ্ছল ভাবে জীবন যাপন করছিলেন মিনহাজ সরদার।

বিষয়টা নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক মিনহাজ বলেন, আমি প্রতিদিন রাতে ২-৩ বার ঘুম থেকে উঠে পাহারা দেই। কিন্তু গতকাল রাতে গভীরভাবে ঘুমিয়ে ছিলাম, সকালে ঘুম থেকে জেগে দেখি গোয়াল ঘর শূন্য, আমার মনে হচ্ছে আশেপাশের কোন চোর চক্র এই চুরি করেছে, আমি গরীব মানুষ, আমার বাছুরসহ তিনটি গরু ছিল যার বর্তমান বাজার মূল্য সাড়ে তিন লক্ষ টাকা, আমি নি:স্ব হয়ে গেলাম। স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন একটু আন্তরিক ভাবে চেষ্টা করলেই চোরদের চিহ্নিত করা যাবে। এই নিয়ে মোট চারবার আমার গরু চুরি হলো। কোন অভিযোগ করেছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি মাথা নাড়িয়ে না সূচক উত্তর দেন। আসলে তিনি এতটাই ভেঙ্গে পড়েন যে এখনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি।

নওগাঁর কাশোপাড়ায় আগুনে পুড়ল বসতঘর ও গবাদিপশু, ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় এম এ মতীন

নওগাঁর কাশোপাড়ায় আগুনে পুড়ল বসতঘর ও গবাদিপশু, ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় এম এ মতীন

মোঃ ফিরোজ আহমেদ,রাজশাহী ব্যুরোঃ  নওগাঁর মান্দা উপজেলার ১২ নম্বর কাশোপাড়া ইউনিয়নের চকউলী বাজার সংলগ্ন এলাকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে কয়েকটি পরিবার ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে। আকস্মিক এ আগুনে আনিছুর, আফজাল, আজাদ, জাহাঙ্গীর আলম ও তছির উদ্দিনের বসতঘর মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, অগ্নিকাণ্ডে প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার টাকার সম্পদের ক্ষতি হয়েছে। আগুনে তিনটি গরু পুড়ে মারা যাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো আর্থিকভাবে বড় ধাক্কা খেয়েছে। এতে এলাকায় শোক ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

ঘটনার পরপরই স্থানীয় বাসিন্দারা এগিয়ে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। পরে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ান বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির অন্যতম সদস্য ও মান্দা উপজেলা বিএনপির সভাপতি এম এ মতীন। তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং সমবেদনা জানান।এ সময় তিনি ব্যক্তিগতভাবে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন এবং ভবিষ্যতেও প্রয়োজন অনুযায়ী সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন।

আলেমদের সঙ্গে মতবিনিময়ে এমপি রেজু শেখ: ইসলামী আদর্শে উন্নয়নের অঙ্গীকার

আলেমদের সঙ্গে মতবিনিময়ে এমপি রেজু শেখ: ইসলামী আদর্শে উন্নয়নের অঙ্গীকার

মোঃ ফিরোজ আহমেদ,রাজশাহী ব্যুরোঃ  নওগাঁ-০৬ (আত্রাই-রাণীনগর) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য শেখ রেজাউল ইসলাম রেজু বলেছেন, ইসলামী মূল্যবোধকে ধারণ করেই তিনি তাঁর নির্বাচনী এলাকার সার্বিক উন্নয়নে কাজ করতে চান। তিনি উল্লেখ করেন, একজন মুসলমান হিসেবে যেমন নামাজ, রোজা, হজ ও যাকাতে বিশ্বাস রাখা হয়, তেমনি সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনায় ইসলামী আদর্শও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

শনিবার দলীয় কার্যালয়ে নির্বাচন-পরবর্তী শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। এসময় নওগাঁ জেলা ও রাণীনগর উপজেলা জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের নেতৃবৃন্দসহ আত্রাই উপজেলার বিভিন্ন মাদ্রাসার আলেমরা উপস্থিত ছিলেন।

এমপি রেজু শেখ বলেন, দেশের হক্কানী আলেমরা সবসময় জাতিকে সঠিক দিকনির্দেশনা দিয়ে আসছেন। সাম্প্রতিক জাতীয় নির্বাচনেও তাঁর নির্বাচনী এলাকাসহ সারাদেশে আলেম সমাজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন। ভবিষ্যতেও উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কাজে আলেমদের পরামর্শকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন নওগাঁ জেলা জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সভাপতি মুফতি রাশেদ ইলিয়াস, সাধারণ সম্পাদক হেলাল হাশেমী, রাণীনগর উপজেলা জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সভাপতি কাজী মাওলানা মোজাফফর হোসেন, সাধারণ সম্পাদক মুফতি আকরাম হোসেনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। এছাড়াও বিভিন্ন মসজিদ ও মাদ্রাসার দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।



ধামইরহাটে খাসির নামে কুকুরের মাংস বিক্রির অভিযোগ, ২৫ কেজি জব্দ

ধামইরহাটে খাসির নামে কুকুরের মাংস বিক্রির অভিযোগ, ২৫ কেজি জব্দ


রাজশাহী ব্যুরোঃ নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলার জাহানপুর ইউনিয়নের মঙ্গলবাড়ী বাজার এলাকায় খাসির মাংসের নামে কুকুরের মাংস বিক্রির চেষ্টার অভিযোগে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের সন্দেহ হলে তারা প্রতিবাদ জানালে অভিযুক্ত কসাই এনতাজুল ও তার সহযোগী দুলু মৌলভী পালিয়ে যান। খবর পেয়ে ধামইরহাট থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রায় ২৫ কেজি জবাইকৃত মাংস জব্দ করে।উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের প্রাথমিক পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া যায়, উদ্ধারকৃত মাংস খাসির নয়, কুকুরের। ধামইরহাট থানার ওসি জানান, অভিযুক্তদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে এবং এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।