কপোতাক্ষ নিউজে খালি থাকা সাপেক্ষে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। অতিস্বত্তর সম্পাদকের সাথে যোগাযোগ করুন।

নঁওগার আত্রাইয়ে অভ্যন্তরীণ বোরো ধান-চাল সংগ্রহের শুভ উদ্বোধন

নঁওগার আত্রাইয়ে অভ্যন্তরীণ বোরো ধান-চাল সংগ্রহের শুভ উদ্বোধন

Uploaded Image
নঁওগার আত্রাইয়ে অভ্যন্তরীণ বোরো ধান-চাল সংগ্রহের শুভ উদ্বোধন

মোঃ ফিরোজ আহম্মেদ, রাজশাহী ব্যুরোঃ নওগাঁর আত্রাই উপজেলায় সরকারিভাবে অভ্যন্তরীণ বোরো ধান ও চাল সংগ্রহের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সকাল সাড়ে ১১টায় উপজেলা খাদ্য খাদ্যগুদাম প্রাঙ্গণে এই কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মনিরুজ্জামান-এর সভাপতিত্বে ​অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, নওগাঁ-৬ (রাণীনগর- আত্রাই) আসনের স্থানীয় সংসদ সদস্য ও আত্রাই উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. রেজাউল ইসলাম রেজু।

​উদ্বোধনী বক্তব্যে প্রধান অতিথি বলেন, কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে। আমাদের লক্ষ্য হলো প্রান্তিক কৃষকরা যাতে তাদের উৎপাদিত ফসলের সঠিক মূল্য সরাসরি পায়। এই সংগ্রহ অভিযানে কোনো ধরনের অনিয়ম বা মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য সহ্য করা হবে না। প্রকৃত কৃষকরা যাতে হয়রানিমুক্ত ভাবে গুদামে ধান দিতে পারেন, প্রশাসনকে তা নিশ্চিত করতে হবে। ​

এসময় উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক শামসুন্নাহার, উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ প্রসেনজিৎ তালুকদার, উপজেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা ডা.আবু আনাছ, আত্রাই থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আব্দুল করিম, খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উত্তম কুমার সরকার, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. আব্দুল জলিল চকলেট, সাধারণ সম্পাদক মো. তসলিম উদ্দিন, যুগ্ম-সম্পাদক মো. আব্দুল মান্নান সরদার ও মো. নিয়মত আলী বাবু, উপজেলা সেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব মো. মনোয়ার হোসেন লোটাস প্রমুখ।

​সভাপতির বক্তব্যে ইউএনও মো. মনিরুজ্জামান বলেন, আমরা শতভাগ স্বচ্ছতার সাথে ধান-চাল সংগ্রহ করতে বদ্ধপরিকর। সরকারের নির্ধারিত মানদণ্ড অনুযায়ী ধান পরীক্ষা করে সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে কেনা হবে। কোনো সিন্ডিকেট বা অসাধু চক্র যাতে কৃষকদের অধিকার নষ্ট করতে না পারে, সেজন্য আমাদের টিম সার্বক্ষণিক তদারকি করবে।

​উপজেলা খাদ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ৩৬ টাকা কেজি দরে সরাসরি কৃষকদের নিকট থেকে ১ হাজার ৯৫৫ মেট্রিক টন ধান ক্রয় করা হবে। একজন কৃষক সর্বোচ্চ ৩ মেট্রিক টন পর্যন্ত ধান সরকারি খাদ্যগুদামে দিতে পারবেন। এছাড়াও চুক্তিবদ্ধ মিলারদের নিকট থেকে ৪৯ টাকা কেজি দরে ১৬৩ মেট্রিক টন চাল ও ৩৬ টাকা কেজি দরে ৭১মেট্রিকটন গম সংগ্রহ করা হবে। ৩রা মে থেকে ​আগামী ৩১ আগস্ট ২০২৬ তারিখ পর্যন্ত এই সংগ্রহ অভিযান চলমান থাকবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

সিন্ধু জলচুক্তি: শান্তির দলিল নাকি একতরফা ছাড়ের ইতিহাস?

 সিন্ধু জলচুক্তি: শান্তির দলিল নাকি একতরফা ছাড়ের ইতিহাস?


নিজস্ব সংবাদদাতাঃ সিন্ধু জলচুক্তিকে দক্ষিণ এশিয়ার কূটনৈতিক ইতিহাসে প্রায়ই একটি “সফল সমঝোতা” হিসেবে তুলে ধরা হয়। কিন্তু যেকোনো চুক্তির প্রকৃত মূল্যায়ন করতে হলে শুধু তার স্থায়িত্ব নয় বরং এর ভেতরের ভারসাম্যও দেখতে হয়। ১৯৬০ সালের এই চুক্তি ছয় দশকের বেশি সময় ধরে টিকে আছে এটি সত্য। তবে একই সঙ্গে এটিও সত্য, শুরু থেকেই এই চুক্তির কাঠামোর মধ্যে ছিল এক ধরনের অসমতা, যার প্রভাব আজও নানা আলোচনায় বারবার ফিরে আসে।

সিন্ধু নদী ব্যবস্থা মূলত ছয়টি প্রধান নদী নিয়ে গঠিত সিন্ধু, ঝিলম, চেনাব, রাভি, বিয়াস ও শতদ্রু। এই নদীগুলোর পানি শুধু কৃষিকাজের জন্য নয়; পানীয় জল, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্পের জন্যও অপরিহার্য। দেশভাগের পর এই নদীগুলো দুই রাষ্ট্রের মধ্যে বিভক্ত হয়ে পড়ে। কিন্তু ভৌগোলিক বাস্তবতা ছিল এমন যে, অধিকাংশ নদীর উজান ভারতের ভূখণ্ডে, আর পাকিস্তানের বিস্তীর্ণ কৃষিভিত্তিক অঞ্চল ছিল ভাটির পানির ওপর নির্ভরশীল। ফলে নদী প্রশ্নটি দ্রুতই রাজনৈতিক ও কৌশলগত ইস্যুতে পরিণত হয়।

১৯৪৭ সালের দেশভাগের পর থেকেই দুই দেশের মধ্যে পানি নিয়ে টানাপোড়েন শুরু হয়। ভারত উজানের দেশ হিসেবে প্রাকৃতিক নিয়ন্ত্রণের সুবিধা পেলেও শুরু থেকেই সম্পূর্ণ আধিপত্যের পথে হাঁটেনি। বরং আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খোঁজার চেষ্টা করে। অন্যদিকে পাকিস্তান বিষয়টিকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরে এবং ক্রমাগত চাপ তৈরির কৌশল নেয়। এই পরিস্থিতিতে বিশ্বব্যাংক মধ্যস্থতায় এগিয়ে আসে। ১৯৫৪ সালে বিশ্বব্যাংক যে প্রস্তাব দেয়, সেটিই পরে মূলত সিন্ধু জলচুক্তির ভিত্তি হয়ে দাঁড়ায়। প্রস্তাবে বলা হয়, পূর্বাঞ্চলের নদী রাভি, বিয়াস ও শতদ্রু ভারত ব্যবহার করবে। অন্যদিকে পশ্চিমাঞ্চলের নদী সিন্ধু, ঝিলম ও চেনাব পাকিস্তানের জন্য নির্ধারিত হবে। এখানেই প্রথম বড় বৈষম্যের প্রশ্ন ওঠে। কারণ পশ্চিমাঞ্চলের নদীগুলোর প্রবাহ ছিল তুলনামূলক অনেক বেশি।

চুক্তির চূড়ান্ত রূপ স্বাক্ষরিত হয় ১৯৬০ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর, করাচিতে। ভারতের পক্ষে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু, পাকিস্তানের পক্ষে প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খান এবং বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধি এতে স্বাক্ষর করেন। আন্তর্জাতিক মহলে এটিকে শান্তিপূর্ণ সমাধানের উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হয়। কিন্তু চুক্তির ধারাগুলো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ভারত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে ছাড় দিয়েছে।চুক্তি অনুযায়ী পূর্বাঞ্চলের তিন নদীর পূর্ণ ব্যবহারিক অধিকার ভারত পেলেও পশ্চিমাঞ্চলের তিন নদীর মূল প্রবাহের ওপর অধিকার কার্যত পাকিস্তানের হাতে চলে যায়। হিসাব অনুযায়ী পশ্চিমাঞ্চলীয় নদীগুলোর বার্ষিক প্রবাহ ছিল প্রায় ১৩৫ মিলিয়ন একর-ফুট (MAF), আর পূর্বাঞ্চলীয় নদীগুলোর প্রবাহ ছিল প্রায় ৩৩ মিলিয়ন একর-ফুট। অর্থাৎ মোট পানির প্রায় ৮০ শতাংশ পাকিস্তানের অংশে যায়, আর ভারত পায় মাত্র ২০ শতাংশের মতো।

এখানেই বিষয়টি শেষ হয়নি। ভারতকে পশ্চিমাঞ্চলের নদীগুলোতে নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও থাকতে হয়। চেনাব নদী থেকে প্রায় ৩.৬ MAF পানি সরিয়ে নেওয়ার অধিকার ভারতকে ছেড়ে দিতে হয়। মাধোপুর বা ফিরোজপুর হেডওয়ার্কসের মতো গুরুত্বপূর্ণ নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার প্রশ্নেও ভারতকে নমনীয় অবস্থান নিতে হয়েছে। এমনকি কিছু এলাকায় নতুন সেচ প্রকল্প বা জলউন্নয়ন কার্যক্রমেও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। ভারতের জন্য সবচেয়ে বড় সীমাবদ্ধতা ছিল পশ্চিমাঞ্চলীয় নদীগুলো ব্যবহারের ক্ষেত্রে কারিগরি শর্ত। ভারত নিজের ভূখণ্ডে জলবিদ্যুৎ প্রকল্প করতে পারবে, তবে তার নকশা, পানি সংরক্ষণের ক্ষমতা, এমনকি বাঁধের গঠন নিয়েও নির্দিষ্ট শর্ত মানতে হবে। অর্থাৎ নদী ভারতের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত হলেও তার পূর্ণ ব্যবহারিক স্বাধীনতা ভারতের হাতে ছিল না।

আরও বিস্ময়কর বিষয় ছিল আর্থিক ছাড়। চুক্তির অংশ হিসেবে ভারত পাকিস্তানকে প্রায় ৬২ মিলিয়ন পাউন্ড অর্থ প্রদান করতে সম্মত হয়, যাতে পাকিস্তান বিকল্প খাল ও অবকাঠামো নির্মাণ করতে পারে। আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এটি ছিল এক ব্যতিক্রমী ঘটনা। কারণ এখানে উজানের দেশ শুধু পানির বড় অংশ ছেড়েই দেয়নি, সেই সঙ্গে ভাটির দেশের অবকাঠামো গঠনের জন্যও অর্থ দিয়েছে। সমর্থকেরা বলেন, এই চুক্তির কারণেই দুই দেশের মধ্যে পূর্ণমাত্রার জলসংঘাত এড়ানো সম্ভব হয়েছে। ১৯৬৫, ১৯৭১ কিংবা কারগিল সংঘাতের সময়ও সিন্ধু জলচুক্তি পুরোপুরি ভেঙে পড়েনি। এটিকে তারা চুক্তির স্থায়িত্ব ও কার্যকারিতার প্রমাণ হিসেবে দেখান। তবে সমালোচকদের বক্তব্য ভিন্ন। তাদের মতে, চুক্তিটি এমন একটি কাঠামো তৈরি করেছে যেখানে ভারত নিজের ভূখণ্ডে থাকা নদীগুলোর ওপরও পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রয়োগ করতে পারেনি, অথচ পাকিস্তান দীর্ঘমেয়াদে তুলনামূলক বেশি সুবিধা পেয়েছে। বিশেষ করে পানি যখন ভবিষ্যতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সম্পদ হয়ে উঠছে, তখন এই ধরনের একতরফা ছাড় নতুন করে প্রশ্নের মুখে পড়ছে। 

আজ, ছয় দশক পরে এসে সিন্ধু জলচুক্তিকে শুধু “শান্তির প্রতীক” বলে দেখলে হয়তো পুরো বাস্তবতাকে অস্বীকার করা হবে। ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ পাঠ হলো একটি রাষ্ট্রের শক্তি শুধু তার সামরিক বা অর্থনৈতিক সক্ষমতায় প্রকাশ পায় না বরং অনেক সময় তার সংযম ও দায়িত্ববোধেও প্রকাশ পায়। সিন্ধু জলচুক্তিতে ভারত সেই সংযমেরই পরিচয় দিয়েছিল। উজানের দেশ হয়েও নদীর বড় অংশের ব্যবহারিক সুবিধা ছেড়ে দেওয়া, এমনকি অবকাঠামো নির্মাণে আর্থিক সহায়তা করা ছিল ভারতের বিরল এক কূটনৈতিক উদারতা। কিন্তু প্রশ্ন হলো, সেই উদারতার বিনিময়ে কি সত্যিই দুদেশের মধ্যে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি হয়েছে, নাকি সময়ের সঙ্গে সেটি ভারতের একতরফা ছাড় দিয়ে যাওয়ার স্থায়ী কাঠামোয় পরিণত হয়েছে?

নন্দীগ্রাম পৌর ছাত্রদলের সভাপতি পলিনসহ ৬ জনের বহিষ্কার আদেশ প্রত্যাহার

 নন্দীগ্রাম পৌর ছাত্রদলের সভাপতি পলিনসহ ৬ জনের বহিষ্কার আদেশ প্রত্যাহার


আব্দুল আহাদ, নন্দীগ্রাম : বগুড়ার নন্দীগ্রামে ছাত্ররাজনীতিতে নতুন মোড় তৈরি হয়েছে। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও নীতি-আদর্শ পরিপন্থী কার্যকলাপের অভিযোগে সাময়িকভাবে বহিষ্কৃত নন্দীগ্রাম পৌর ছাত্রদলের সভাপতি  রাকিবুল হাসান পলিনসহ ৬ জন নেতার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করেছে বগুড়া জেলা ছাত্রদল।মঙ্গলবার (১২ মে) জেলা ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক সোহান ইসলাম স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়, যা স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বগুড়া জেলা ছাত্রদলের সভাপতি হাবিবুর রশিদ সন্ধান এবং সাধারণ সম্পাদক এম আর হাসান পলাশ এ সিদ্ধান্তে অনুমোদন করেন। বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার পাওয়া নেতারা হলেন, নন্দীগ্রাম পৌর ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল হাসান পলিন, দপ্তর সম্পাদক  সাজু আহমেদ, প্রচার সম্পাদক সুজন মাহমুদ, সদস্য শাকিল আহম্মেদ, মনসুর হোসেন ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি আফিফ হোসেন এবং ৬নং ওয়ার্ড ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক রবিউল ইসলাম। এর আগে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে সাময়িক বহিষ্কারাদেশ জারি করা হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে সংগঠনের অভ্যন্তরে বিষয়টি নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা-পর্যালোচনা, সংশ্লিষ্ট নেতৃবৃন্দের আবেদন এবং সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এনে সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনা করা হয়। শেষ পর্যন্ত বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে তাদের স্ব-স্ব পদে পুনর্বহাল করা হয়।দলীয় নেতারা জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে সংগঠনের শৃঙ্খলা ও নীতি-আদর্শ পরিপন্থী কোনো কর্মকাণ্ড বরদাস্ত করা হবে না। একই সঙ্গে সকল নেতাকর্মীকে দলীয় নিয়ম-নীতি মেনে চলার কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের পর প্রতিক্রিয়ায় রাকিবুল হাসান পলিন বলেন,দলের সিদ্ধান্তই আমার কাছে সর্বোচ্চ। আমি সবসময় দলের নির্দেশনা মেনে চলেছি এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত রাখবো। সংগঠনের ঐক্য, শৃঙ্খলা ও আদর্শ রক্ষায় আমরা সবাই একসঙ্গে কাজ করবো।

আত্রাইয়ে ধান মাড়াইয়ের মেশিন সরানো নিয়ে সংঘর্ষ, আহত ৪

আত্রাইয়ে ধান মাড়াইয়ের মেশিন সরানো নিয়ে সংঘর্ষ, আহত ৪
Uploaded Image
মোঃ ফিরোজ আহমেদ, রাজশাহী ব্যুরোঃ নওগাঁর আত্রাই উপজেলার পবনডাঙ্গা গ্রামে ধান মাড়াইয়ের মেশিন সরানোকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ৪ জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ৮ জনের নাম উল্লেখ করে আত্রাই থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। জানা যায়, গত রোববার সন্ধ্যায় পবনডাঙ্গা গ্রামের দুলাল হোসেনের বাড়ির সামনে হেরিং রাস্তার ওপর রাখা ধান মাড়াইয়ের মেশিন সরানো নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত হয়। পরে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। অভিযোগে বলা হয়, এ সময় রাকিব হোসেনকে বাঁশের লাঠি ও গাছের ডাল দিয়ে মারধর করা হলে তাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেন সাদেক হোসেন, সোহাগ হোসেন ও মিজানুর রহমান। তারাও হামলার শিকার হন। আহতদের মধ্যে সাদেক হোসেনের হাত ভেঙে গেছে বলে জানা গেছে।

এছাড়া হামলার সময় মিজানুর রহমানের পকেটে থাকা প্রায় ২৯ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে আত্রাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। ঘটনার পর সোমবার আহতদের স্বজন আব্দুল আলিম বাদী হয়ে আত্রাই থানায় এজাহার দায়ের করেন। এতে পবনডাঙ্গা গ্রামের কয়েকজনসহ মোট ৮ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
আত্রাই থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আব্দুল করিম জানান, লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

ভুট্টা চাষে ব্যাপক বিস্তার,বাম্পার ফলনের আশায় কৃষকরা

 ভুট্টা চাষে ব্যাপক বিস্তার,বাম্পার ফলনের আশায় কৃষকরা
মোঃ ফিরোজ আহমেদ,রাজশাহী ব্যুরোঃ ধানের রাজ্য হিসেবে পরিচিত আত্রাই উপজেলায় এবার চলতি মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে ভুট্টা চাষ হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া ও আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহারে কৃষকদের আগ্রহ বাড়ায় ভুট্টা আবাদে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আবহাওয়া সহায়ক থাকলে এবার বাম্পার ফলন পাওয়া যাবে। উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়,উপজেলার ৮টি ইউনিয়নেই গত বছরের তুলনায় ভুট্টা চাষের পরিমাণ বেড়েছে।বিশেষ করে শাহাগোলা, ভোঁপাড়া,কালিকাপুর, হাটকালুপাড়া,মনিয়ারী ও আহসানগঞ্জ ইউনিয়নে সবচেয়ে বেশি আবাদ হয়েছে। কম খরচে বেশি লাভ এবং বাজারে তুলনামূলক ভালো দাম পাওয়ায় কৃষকরা ধান ও আলুর পরিবর্তে ভুট্টা চাষে ঝুঁকছেন।

হাটকালুপাড়া গ্রামের কৃষক জফের আলী বলেন,“আগে যেসব জমিতে বোরো ধান চাষ করতাম, এবার সেসব জমির অনেকটিতে ভুট্টা করেছি।ধানের উৎপাদন খরচ বেশি,আবার বাজারদরও অস্থির। কিন্তু ভুট্টায় খরচ কম ও দাম ভালো—তাই ভুট্টার দিকেই ঝুঁকেছি।” সুটকিগাছা গ্রামের কৃষক মোঃ আব্দুর রাজ্জাক জানান,“আমাদের এলাকা আলু চাষের জন্য পরিচিত হলেও ন্যায্য দাম না পাওয়ায় অনেক কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।তাই এবার ভুট্টা চাষ করছি। ফলন ভালো হলে লাভবান হওয়ার আশা করছি।”

Uploaded Image
শাহাগোলা ইউনিয়নের তারাটিয়া ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা জাহিদ হাসান বলেন, গত বছরের তুলনায় এ বছর ভুট্টার আবাদ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ ও মাঠ পর্যায়ে তদারকি করা হচ্ছে। ভবানীপুর ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা জানান, উচ্চ ফলনশীল জাতের বীজ ব্যবহার, সুষম সার প্রয়োগ ও রোগবালাই দমনে সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে কৃষকদের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বলেন,“কৃষকদের আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।বীজ,সার ও কৃষি উপকরণ সরবরাহে সার্বক্ষণিক নজরদারি রয়েছে।এ বছর ভুট্টার গাছের বৃদ্ধি ও শিষের অবস্থা সন্তোষজনক। সব কিছু অনুকূলে থাকলে বাম্পার ফলন হবে বলে আমরা আশাবাদী।

আত্রাইয়ে বাতাসে দুলছে হলুদ-সোনালী রঙের থোকা থোকা সোনাঝরা সোনালু ফুল

আত্রাইয়ে বাতাসে দুলছে হলুদ-সোনালী রঙের থোকা থোকা সোনাঝরা সোনালু ফুল

Uploaded Image

মোঃ ফিরোজ আহম্মেদ, রাজশাহী ব্যুরো:  নওগাঁর আত্রাইয়ে বাতাসে দুলছে হলুদ-সোনালী রঙের থোকা থোকা সোনাঝরা সোনালু ফুল। ফুটেছে ঐ সোনালু ফুল,প্রকৃতির কানে অপূর্ব দুল,কাঁচা সোনায় কোন সোনারু বানইলে,দেখতে সুন্দর মন কাড়ে থোকা থোকা বনবাদড়ে,এত সুন্দর রঙিন সাজে কে সাজাইলে। কবি কাজী নজরুল ইসলাম তার কবিতার মধ্যেই সোনালু ফুলের সৌন্দর্য তুলে ধরেছেন।

হলুদ বরণ সৌন্দর্য মাতোয়ারা করে রাখে চারপাশ,খরতাপে চলতি পথে পথিকের নজর কাড়বেই। গ্রীষ্মের প্রকৃতিতে প্রাণের সজীবতা নিয়ে যেসব ফুল ফোটে তার মধ্যে সোনালু উল্লেখযোগ্য। গ্রীষ্ম রাঙানো এ ফুল দেখতে যেমন আকর্ষণীয় তেমনি তার নামের বাহার- সোনালু, সোনাইল, সোঁদাল,বান্দরলাঠি ইত্যাদি,সোনালু ফুল সৌন্দযের্র সভা ছড়াচ্ছে।সোনালু ফুল দেশের গ্রামীণ জনপদের পাশাপাশি শহরের মানুষের কাছে সমান গুরুত্ব বহন করে।

আত্রাইয়ের বাজার গুলোতে দেশি জাতের গুটি লিচু পাওয়া যাচ্ছে

আত্রাইয়ের বাজার গুলোতে দেশি জাতের গুটি লিচু পাওয়া যাচ্ছে

Uploaded Image

মোঃ ফিরোজ আহমেদ, রাজশাহী ব্যুরোঃ আত্রাইয়ের বাজার গুলোতে দেশি জাতের গুটি লিচু পাওয়া যাচ্ছ ৷  আত্রাই উপজেলার বিভিন্ন হাট বাজার গুলোতে দেশি যাতিও লিচু দেখা যায়তেছে খেতে কিছুটা টক হলেও রঙিন এই লিচু দেখে ক্রেতারাও ভিড় জমাচ্ছেন লিচু দোকানে। মধুর মাসের বাজারে ওঠা প্রথম লিচু হওয়ায় এখন প্রতি ১০০ লিচুর দাম এখন ৩০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করা হচ্ছে। অনকেটা দাম চড়া।

দেশি জাতের লিচুগুলো একটু টক ও হালকা মিষ্টি।তবে টসটসে মিষ্টি লিচু আসবে কিছু দিন পরে। আর কয়েকদিন পর বিভিন্ন উন্নত জাতের লিচু বাজারে পাওয়া যাবে।তখন বিভিন্ন জাতের লিচু উঠলে দামও কিছুটা কমবে। মাদ্রাজি,বোম্বাই, বেদানা,চায়না,কাঁঠালি বোম্বাই কোনটাই এখনো আসেনি।এসব লিচু বেশ সাইজের হয়ে থাকে,প্রচুর রসালো ও খেতে মধুমিষ্টি। মৌসুমের প্রথম ফল বাজারে আসায় দামটা একটু বেশি।তবে অন্যান্য জাতের লিচু বাজারে উঠলে দাম কমে যাবে। বান্দাইখাড়া বাজারসহ আত্রাই উপজেলার বভিন্ন বাজারে লিচুর পসরা সাজিয়ে বসেছেন ব্যবসায়ীরা।তারা জানিয়েছেন,বাজারে এসেছে গুটি জাতের দেশি লিচু।এলাকার আশপাশের বাগানগুলো থেকে লিচু এনে এখানে বিক্রি করছেন তারা। প্রতি একশ’ লিচু বিক্রি করছে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকায়। দাম চড়া এটিও মানছেন ক্রেতারা।তবে আবহাওয়া অনুক‚লে না থাকায় সরবরাহ কম থাকায় দাম এবার একটু বেশি হয়েছে বলেও দাবি করছেন এ ফল ব্যবসায়ীরা।তাই মৌসুমের নতুন ফল হিসেবে তুলনামূলক একটু বেশি দামেই লিচু কিনতে হচ্ছে ক্রেতাদের।

বাগান মালিকরা বলছেন,  উন্নতমানের জাত হিসেবে বোম্বাই, মাদ্রাজি, কাদমি, মোজাফফরপুরী, বেদানা, কালীবাড়ি, মঙ্গলবাড়ি, চায়না-৩, বারি-১, বারি-২ ও বারি-৩ জাতের লিচু উৎপাদিত হয়। এর মধ্যে বোম্বাই লিচুর চাহিদা বেশি। সবচেয়ে বেশি গাছ রয়েছে বোম্বাই লিচুরই।বাজারে দুই একদিনের মধ্যে।এবিষয়ে কৃষি সমপ্রসারণ অধিদফতর বলছে, গত কয়েক বছরে আমের পাশাপাশি শুধু লিচু চাষ করেই শতাধিক চাষি স্বনির্ভর হয়ে উঠেছেন।লিচু চাষেও কৃষকের আগ্রহ বাড়ছ।লিচু চাষ করে অনেক কৃষক স্বাবলম্বী হয়ে ওঠায় এবার লিচুতেও নীরব বিপ্লব ঘটতে চলেছে।