কপোতাক্ষ নিউজে খালি থাকা সাপেক্ষে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। অতিস্বত্তর সম্পাদকের সাথে যোগাযোগ করুন।

news

news

আত্রাইয়ে ভুটভুটি পুকুরে পড়ে অল্পের জন্য রক্ষা বহু প্রাণ, আহত ১


মোঃ ফিরোজ আহমেদ 
রাজশাহী ব্যুরো

নওগাঁর আত্রাই উপজেলার বান্দাইখাড়া এলাকায় ভুটভুটি পুকুরে পড়ে অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছেন বেশ কয়েকজন যাত্রী। এ ঘটনায় একজন গুরুতর আহত হয়েছেন।

রোববার (১৫ মার্চ) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে আত্রাই উপজেলার বান্দাইখাড়া মাদ্রাসা গেটের পেছনে প্রতিভা স্কুলের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একটি ভুটভুটিতে করে কয়েকজন যাত্রী ও একটি গরু নিয়ে যাওয়ার সময় হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সেটি রাস্তার পাশের পুকুরে পড়ে যায়। এ সময় স্থানীয়রা দ্রুত এগিয়ে এসে যাত্রীদের উদ্ধার করেন।

দুর্ঘটনায় একজন গুরুতর আহত হন। তাকে উদ্ধার করে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

এ ঘটনায় এলাকায় কিছু সময়ের জন্য চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। স্থানীয়দের দ্রুত সহযোগিতার কারণে বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে জানা গেছে।

গাবুরায় সুন্দরবন নারী দল সুপেয় পানি প্লান্টের শুভ উদ্বোধন

 গাবুরায় সুন্দরবন নারী দল সুপেয় পানি প্লান্টের শুভ উদ্বোধন


আল-হুদা মালী শ্যামনগর প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নে পানি সংকট ও দূর্জোগ প্রবণ এলাকা ৯নং সোরা গ্রামে সুন্দরবন নারী দল সুপেয় পানির প্লান্টের শুভ উদ্বোধন হয়েছে।


রবিবার (১৫ মার্চ) বেলা ১০ টার সময় বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা রূপান্তরের বাস্তবায়নে ওয়াটার এইডের আর্থিক সহযোগিতা এই কার্যক্রমটি বাস্তবায়ন হয়।



অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন, সুন্দরবন নারী দলের সভাপতি শিরিন সুলতানা। প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন, গাবুরা ইউনিয়নে পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব জি,এম, মাছুদুর আলম। তিনি সুন্দরবন নারী দল সুপেয় পানির প্লান্টের ফিতা কেটে শুভ উদ্বোধন করেন।

বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন,রূপান্তরের প্রোগ্রাম ডিরেক্টর (ডিজাস্টার ম্যানেজম্যান্ট এ্যান্ড ক্লাইমেট চেইঞ্জ এডাপটেশন) মোঃ ফারুক আহমেদ। প্রকল্প ব্যাবস্থাপক তসলিম আহম্মেদ টংকার,মনিটরিং অফিসার, সাদিয়া সুলতানা, গাবুরা ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্য জি এম,মঞ্জুর হোসেন, সংরক্ষিত মহিলা ইউপি সদস্য ফরিদা পারভীন, সাধারণ সম্পাদক উপকূলীয় প্রেসক্লাব আল-হুদা মালী,রূপান্তরের ফাইনান্স অফিসার দেব নারায়ণ মন্ডল ও প্রকল্প ইন্জিনিয়ার আবু সুফিয়ান সহ রূপান্তরের সকল কর্মকতাবৃন্দ প্রমূখ।

রূপান্তরের মোঃ ফারুক আহমেদ বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে তীব্র পানি সংকট বেড়েছে। লবণাক্ততা বৃদ্ধি এই সংকটকে আরও তীব্রতর করে তুলেছে। উপকূলীয় এলাকায় সরকারী বেসরকারীভাবে যে সকল পানি প্রযুক্তি স্থাপন করা হয়েছে সেগুলি উৎস্য নষ্ট হওয়া, প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা, প্রযুক্তি ব্যবস্থাপনা ও রক্ষণাবেক্ষণ জটিলতার কারনে পানি সংকট নিরসনে দীর্ঘমেয়াদে কার্যকরী হচ্ছে না। এইমুহুর্তে সুন্দরবন নারী দল লবনাক্ত পানিকে নিরাপদ পানি হিসাবে পানযোগ্য করার একটি সফল কার্যকরী পানি প্রযুক্তি। 

ফরিদা পারভীন বলেন, উপকূলীয় এলাকার পানি সংকট প্রবণ এলাকার মধ্যে গাবুরা ইউনিয়নের ৯নং সোরা গ্রামে বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা রূপান্তর ওয়াটার এইডের এর আর্থিক সহযোগিতায় একটি সুন্দরবন নারী দল সুপেয় পানির প্লান্টের স্থাপন করেছে। এই পানি বিএয় যোগ্য উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বলেন, উপকূলে পানি সংকট প্রকট। পানি সংকট এলাকায় সুন্দরবন নারী দল সুপেয় পানির প্লান্ট স্থাপন করেছে। আরও পানি প্রযুক্তি স্থাপন করার জন্য আহবান করছি। উপকূলীয় এলাকায় পানি কিন্তু কিনে খেতে হয় এবং দূর্যোগের সময় এই সংকট আরও বেড়ে যায়। রূপান্তর উপকূলের মানুষের জন্য ভালো কাজ করছে। রূপান্তরের যোগাযোগের মাধ্যমে এমন উন্নয়ন কর্মকান্ড অব্যহত থাক এই প্রত্যাশা করছি।

আত্রাই নদীর দুই তীরে গড়ে উঠেছে সবুজের সমারোহ

আত্রাই নদীর দুই তীরে গড়ে উঠেছে সবুজের সমারোহ

মোঃ ফিরোজ আহমেদ,রাজশাহী ব্যুরোঃ নওগাঁর আত্রাইয়ে ঐতিহ্যবাহী আত্রাই নদীর দুই তীরে গড়ে উঠেছে সবুজের সমারোহ।নদী মাত্রিক এলাকা হিসেবে নদীর দুই তীরে বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে দোল খাচ্ছে সবুজ পাতা।কোথাও ভুট্টা কোথাও আলু কোথাও বাদামসহ বিভিন্ন রবিশস্যে এখন দোলা খাচ্ছে কৃষকের স্বপ্ন। ৮ ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত আত্রাই উপজেলা।উপজেলার ৮ ইউনিয়নের মধ্যে ৭ ইউনিয়নেরই বুক চিড়ে বয়ে গেছে আত্রাই নদী। বর্ষা মৌসুমে নদীতে পানি থৈ থৈ করলেও শুস্ক মৌসুমে নদীর চরসহ দুই কূলের বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে কৃষকরা ফসল উৎপাদন করে থাকে।

বিশেষ করে উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নের শলিয়া, তাড়ানগর, বাউল্লা, রায়পুর, শাহাগোলা ইউনিয়নের রসুলপুর, জাতোপাড়া, ভোঁপাড়া ইউনিয়নের সদুপুর, মহাদিঘী, কাশিয়াবাড়ি, ভরতেঁতুলিয়া, আহসাগঞ্জ ইউনিয়নের চৌরবাড়ি, বেওলা, কুমঘাট, পাঁচুপুর ইউনিয়নের মধুগুড়নই, পাঁচুপুর, মালিপুকুর, পারগুড়নই, গুড়নই, বিশা ইউনিয়নের বৈঠাখালী, উদয়পুর, খালপাড়া পারমোহনঘোষসহ বিভিন্ন গ্রামের হাজার হাজার কৃষক নদীর তীরে তাদের জমিতে আলু, ভুট্টা, বাদামসহ বিভিন্ন প্রকারের ফসল ও শাকসব্জি চাষ করেছেন।এসব এলাকার নদীর দুই তীর এখন সবুজে ছেয়ে গেছে।বিশেষ করে আলু ভুট্টা ও বাদামের সবুজ গাছ কৃষকদের চোখে মুখে হাসির ঝিলিক ফুটিয়ে তুলেছে। এদিকে এবারে আলুতে বেশ লভবান হওয়ার স্বপ্নে অধিক হারে আলু চাষ করেছেন এলাকার কৃষক।অনুকূল আবহাওয়া ও ভাল পরিচর্যায় এবার আলুর বাম্পার ফলন হবে বলে কৃষকরা মনে করছেন।


উপজেলার সদুপুর গ্রামের সিরাজুল ইসলাম বলেন, আমাদের মাঠে চৈতালী ফসল তেমন হয়না শুধু ধানের জন্যই আমাদের মাঠ বিখ্যাত।তবে নদীর তীরের জমিগুলোতে আলু ভুট্টা সরিষা ও বাদামের খুব ভাল ফলন হয়।এবারে আমি নদীর তীরে ৫ বিঘার অধিক জমিতে আলু চাষ করেছি।আলুর গাছ দেখে বাম্পার ফলন হবে বলে আশা করছি।

উপজেলা কৃষি অফিসার বলেন, এ অঞ্চলের কৃষকরা যাতে রবিশস্য উৎপাদনে উৎসাহিত হন এ জন্য মাঠ পর্যায়ে আমাদের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাগণ নিরলসভাবে কৃষকদের পরামর্শ প্রদান করছেন।এবার বিপুল সংখ্যক কৃষকদের আমরা রবিশস্য উৎপাদনে কৃষি প্রণোদনা সহায়তা প্রদান করেছি।সেই সাথে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে স্বল্প খরচে ফসল উৎপাদনেও আমরা কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করছি।

রাজশাহীতে বিএসটিআই’র লাইসেন্সবিহীন ০২টি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

রাজশাহীতে বিএসটিআই’র লাইসেন্সবিহীন ০২টি প্রতিষ্ঠানকে  জরিমানা

প্রেস বিজ্ঞপ্তি:  বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস এন্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) বিভাগীয় কার্যালয়, রাজশাহীর উদ্যোগে অদ্য বুধবার দুপুর ১২.০০ ঘটিকায় রাজশাহী জেলার পবা উপজেলায় একটি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয়। এতে বিএসটিআই’র গুণগত মানসনদ (সিএম লাইসেন্স) ও মোড়কজাত নিবন্ধন সনদ গ্রহণ ব্যতিরেকে অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে কোন প্রকার যন্ত্রপাতি ছাড়াই নি¤œমানের ‘স্যানিটারী ন্যাপকিন’ পণ্য উৎপাদন ও বিক্রি-বিতরণ করায় বায়া বাজার এলাকায় অবস্থিত এন এস মেডিকেল ইন্টারন্যাশনাল প্রতিষ্ঠানটিকে ৪০,০০০/- (চল্লিশ হাজার টাকা মাত্র) জরিমানা করা হয় এবং তৈরিকৃত স্যানিটারী ন্যাপকিনসহ উৎপাদনে ব্যবহৃত সকল কাঁচামাল জব্দ ও ধ্বংস করা হয়। প্রতিষ্ঠানটির স্বত্ত্বাধিকারী জনাব আব্দুল মোমিন পরবর্তীতে বিএসটিআই হতে অনুমোদন ব্যতিরেকে এধরণের পণ্য উৎপাদন, বিক্রয় ও বিতরণ করবেন না মর্মে লিখিত অঙ্গীকারনামা জমা দেন।
এছাড়া একই এলাকায় অবস্থিত মেসার্স বাঁধন দই ঘর প্রতিষ্ঠানটি বিএসটিআই’র গুণগত মানসনদ গ্রহণ ছাড়াই ‘ফার্মেন্টেড মিল্ক (দই)’ উৎপাদন ও বিক্রি-বিতরণ এবং পণ্যের মোড়কে অবৈধভাবে বিএসটিআই’র মানচিহ্ন ব্যবহার করায় ১০,০০০/- (দশ হাজার টাকা মাত্র) জরিমানা করা হয়।

বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি), পবা, রাজশাহী জনাব মোহাম্মদ মেহেদী হাসান এর নেতৃত্বে পরিচালিত উক্ত মোবাইল কোর্টে প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বিএসটিআই বিভাগীয় অফিস, রাজশাহীর সার্টিফিকেশন মার্কস উইং এর কর্মকর্তা প্রকৌশলী জুনায়েদ আহমেদ এবং মেট্রোলজি উইং এর কর্মকর্তা মোঃ মেহেদী হাসান। এসময় বিএসটিআই’র কর্মকর্তা মোঃ আজিজুল হাকিম ও মোঃ মসফিকুল হাসান সহ পবা থানা পুলিশের সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। জনস্বার্থে বিএসটিআই, রাজশাহীর এধরণের অভিযান নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে। 
অপর দিকে রাজশাহীতে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, বিএসটিআই ও জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের যৌথ অভিযানে ০৩টি প্রতিষ্ঠানকে ৪০,০০০/- জরিমানা অদ্য বিকেলে রাজশাহী মহানগরীতে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, বিএসটিআই ও জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে এক ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয়। এতে নির্ধারিত মূল্যের চাইতে অতিরিক্ত মূল্যে পণ্য বিক্রি করায় এবং অবৈধভাবে বিএসটিআই’র মানচিহ্ন ব্যবহার করায় সাহেব বাজার গুড়পট্টি এলাকায় অবস্থিত মৌচাক মিষ্টান্ন ভান্ডারকে ১০,০০০/- জরিমানা করা হয়। এছাড়া ওজনে কম দেওয়ায় এবং অনুমোদনপ্রাপ্ত কারখানা ব্যতীত অন্যত্র ‘ফার্মেন্টেড মিল্ক (মাঠা)’ উৎপাদন ও বিক্রি-বিতরণ করায় সাহেব বাজার এলাকায় অবস্থিত নবরূপ দধি ও মিষ্টান্ন ভান্ডারকে ২৫,০০০/- জরিমানা করা হয়। এরপর আরডিএ মার্কেটে অবস্থিত কাপড়ের দোকানসমূহে দাম যাচাই করা হয়। এসময় ক্রয়ের মূল্যতালিকা প্রদর্শন করতে না পারায় শেখ গার্মেন্টসকে ৫০০০/- জরিমানা করা হয়।

বিজ্ঞ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জনাব মোঃ আতাউল্লাহ এর নেতৃত্বে পরিচালিত উক্ত মোবাইল কোর্টে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা জনাব ফজলে এলাহী, বিএসটিআই বিভাগীয় অফিস রাজশাহীর কর্মকর্তা প্রকৌঃ জুনায়েদ আহমেদ ও মোঃ মসফিকুল হাসান এবং মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জনাব মোঃ আশিকুর রহমান ও সাদ্দাম হোসেন। এসময় র‌্যাব-৫ ও বাংলাদেশ পুলিশ সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। 

ঘরের চার দেয়াল পেরিয়ে নেতৃত্বের গল্প শোনাতে তানজানিয়া যাচ্ছেন শ্যামনগরের অপর্ণা মল্লিক

ঘরের চার দেয়াল পেরিয়ে নেতৃত্বের গল্প শোনাতে তানজানিয়া যাচ্ছেন শ্যামনগরের অপর্ণা মল্লিক

রিতোষ কুমার বৈদ্য,শ্যামনগর(সাতক্ষীরা) প্রতিনিধিঃ নিজের জীবনের সংগ্রাম আর নেতৃত্বে উঠে আসার অনুপ্রেরণামূলক গল্প আন্তর্জাতিক পরিসরে তুলে ধরতে তানজানিয়া সফরে যাচ্ছেন সাতক্ষীরার শ্যামনগরের সুন্দরবন সংলগ্ন গৃহবধূ অপর্ণা মল্লিক। সিসিডিবি (CCDB-Christian Commission for Development in Bangladesh) এনগেজ প্রকল্পটি (ENGAGE Project) ২০২০ সাল থেকে সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী ও মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নে নারীদের নেতৃত্ব উন্নয়ন এবং স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে কাজ করে যাচ্ছে। উক্ত প্রকল্পের সাথে ১৫০ জন নারী প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত আছেন, তার মধ্যে জবা নারী উনন্নয় দলের একজন সফল সভা নেত্রী অপর্ণা মল্লিক। তিনি শ্যামনগর উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের মাঝিরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।

গৃহবধূ জীবন থেকে বেরিয়ে এসে অপর্ণা মল্লিক এনগেজ প্রকল্পের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। ধীরে ধীরে নিজের দক্ষতা, আত্মবিশ্বাস ও নেতৃত্বগুণ বিকাশের মাধ্যমে তিনি নিজেকে একজন নেত্রী হিসেবে গড়ে তোলেন। সমাজের নানা বাধা, পারিবারিক ও সামাজিক প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করে আজ তিনি একজন সফল নারী নেত্রী হিসেবে সকলের নিকট পরিচিত।

তার এই সাফল্যের গল্প আন্তর্জাতিক পরিসরে তুলে ধরতে কোডি ইনিস্টিটিউট (Coady Institute) নামক একটি কানাডিয়ান প্রতিষ্ঠান তাকে তানজানিয়ায় অনুষ্ঠিতব্য এনগেজ গ্লোবাল গেদারিং অন ওমেনস লিডারশিপ এ্যান্ড একটিভ সিটিজেশিপ (ENGAGE Global Gathering on Woman's Leadership and Active Citizenship) প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করতে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। প্রতিষ্ঠানটির আমন্ত্রণে তিনি ২০ মার্চ ২০২৬ তানজানিয়ায় উক্ত প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করতে যাচ্ছেন। এই প্রোগ্রামে আরও অংশগ্রহণ করবেন বাংলাদেশসহ ভারত, ইথিউপিয়া, হাইতি ও তানজানিয়ার প্রতিনিধিরা। সেখানে তিনি ২২ মার্চ, ২০২৬ থেকে ২৮ মার্চ, ২০২৬ পর্যন্ত অবস্থান করবেন। সেখানে তিনি নিজের জীবনের অভিজ্ঞতা, সংগ্রাম ও শ্যামনগরের নারীদের নেতৃত্বে এগিয়ে আসার গল্প তুলে ধরবেন।

অপর্ণা মল্লিকের এই আন্তর্জাতিক সফর স্থানীয় নারীদের জন্য অনুপ্রেরণার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, তার এই অর্জন ভবিষ্যতে আরও অনেক নারীকে ঘরের চার দেয়াল পেরিয়ে নেতৃত্বের পথে এগিয়ে যেতে সাহস জোগাবে।

কশবপুরে ডিজেল সংকটে ঝুঁকিতে বোরো আবাদ

কশবপুরে ডিজেল সংকটে ঝুঁকিতে  বোরো আবাদ
মোল্যা আব্দুস  সাত্তার : কেশবপুর (যশোর) যশোরের কেশবপুরে বোরো মওসুমে ধানের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ডিজেল সংকট নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা। পাম্প ও স্থানীয় বাজারে চাহিদামতো ডিজেল না পওয়ায় সময়মতো জমিতে পানি দিতে পারছেন না কৃঘকরা । এতে উৎপাদন ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি ফসলের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। 


উপজেলা কৃষি অফিস জানায়, এবছর ১৩ হাজার ৩০৭ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। যা থেকে ৮৯ হাজার ৩৪৪ মেট্রিকটন ধান উৎপাদন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই ধান উৎপাদনে নিরবিচ্ছন্ন ভূ-গর্ভস্থ পানি উত্তোলনে ডিজেল চালিত এলএলবিসহ ৫ হাজার ২৭৫ টি মেশিন ও বিদ্যুৎ চালিত গভীর নলকূপ ৫২টি, এলএলবিসহ অগভীর নলকূপ ২ হাজার ১৬২টি রয়েছে। এছাড়াও, সৌর বিদ্যুৎ চালিত পাম্প রয়েছে ৪টি। এরমধ্যে ডিজেল চালিত সেচ পাম্প দিয়ে ৫ হাজার ৩৯৭ হেক্টর কৃষি জমিতে সেচ দেয়া হয়। অবশিষ্ট জমিতে বিদ্যুৎ চালিত সেচ পাম্প দিয়ে আবাদ করা হয়। এরজন্যে প্রতিদিন ডিজেলের প্রয়োজন রয়েছে ১৫ হাজার ৭৮৫ লিটার। এ উপজেলার ৫টি ফিলিং স্টেশন থেকে কৃষকেরা ডিজেল সংগ্রহ করে থাকেন। এসব পাম্পে কখন ডিজেল আসে, আর কখন শেষ হয় তা কৃষকেরা জানেন না। যার কারণে কৃষকেরা সময়মতো ইরি/বোরো ধানে পানি সেচ দিতে পারছে না। 
উপজেলার ধর্মপুর গ্রামের কৃষক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, তার ব্লকের অধীনে ৫ বিঘা জমি রয়েছে। জমিতে সেচ দিতে তিনি ডিজেল চালিত শ্যালো মেশিন ব্যবহার করেন। সময়মতো সার, বীজ, কীটনাশক ও পরিচর্যা করায় অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর ধানের ভালো ফলন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু হঠাৎ ডিজেল পাওয়া যাচ্ছে না। সময়মতো পানি দিতে না পারলে ভালো ফলন থেকে তিনি বঞ্চিত হবেন। মঙ্গলবার ২ লিটার ডিজেল কিনতে পেরেছি। তা দিয়েই সেচ দিয়েছি। আর কবে পাবো তানিয়ে তিনি দুশ্চিন্তায় রয়েছি। 
বারুইহাটী গ্রামের কৃষক রজব আলী চৌধুরী প্রমুখ সিনেমায় অভিনয়ের  জানান, তিনি এবছর একবিঘা জমিতে বোরো ধান আবাদ করেছেন। খেতের ধান কাইচ থোড় পর্যায়ে রয়েছে। এখন জমিতে টানের সময়, পানির খুবই দরকার। দোকানে দোকানে ঘুরেও ডিজেল পাচ্ছি না। শূন্য হাতে বাড়ি ফিরছি। ধান খেতে পানি নাই। খুব দুশ্চিন্তায় রয়েছি। আগে স্থানীয় বাজারে ১০৫ টাকায় এক লিটার ডিজেল পাওয়া যেত। এখন তা ১১০ টাকা থেকে ১১৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তাও মিলছে না। গত বুধবার সরেজমিনে শহরের ৩টি পাম্প পরিদর্শনকালে দেখা গেছে, প্রেট্রোল, অকটেন ও ডিজেল না থাকায় পাম্পগুলো বন্ধ রয়েছে। কৃষকরা তেলের টপ নিয়ে তেল না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন। 
স্থানীয় বাজারের ডিজেল ব্যবসায়ীরা জানান, ১০ দিন আগে থেকে তারা ডিজেল পাচ্ছেন না। একারণে ডিজেল বিক্রি বন্ধ রয়েছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্ল্যাহ আল মামুন বলেন, আমাদের উপসহকারি কৃষি কর্মকর্তারা মাঠ পর্যায়ে কাজ করছেন। কেউ বেশি দামে ডিজেল বিক্রি করলে উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে জরিমানা করা হবে। তিনি আরও বলেন, এ উপজেলার মাছের ঘেরে ৩২'শ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ হয়েছে। গত বুধবার উপজেলা সেচ কমিটির সভা হলেও এরজন্যে কোনো ডিজেল বরাদ্দ নাই।

ডাক্তার রাশিয়ায় চিকিৎসা কেশববপুরে ভুল চিকিৎসায় শিশু হাসপাতালের ৮ মাসের শিশুর মৃত্যু হাসপাতাল ভাঙচুর।

ডাক্তার রাশিয়ায় চিকিৎসা  কেশববপুরে   ভুল চিকিৎসায় শিশু হাসপাতালের   ৮ মাসের শিশুর মৃত্যু হাসপাতাল ভাঙচুর।
কেশবপুর (যশোর) সংবাদদাতা : কেশবপুর শহরের শিশু ও জেনারেল হাসপাতালের নার্সদের অবহেলায় আরিয়ান নামে ৮ মাসের এক শিশুর করুন মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় রোগীর স্বজনরা প্রতিবাদ করলে হাসপাতালের রিসিপশন শাখার লোকজন তাদের সাথে মারমুখী আচরণ করে। একপর্যায়ে সাধারণ জনতা এগিয়ে এসে হাসপাতাল ভাঙচুর করে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
জানা গেছে, উপজেলার গৌরিঘোনা ইউনিয়নের সারুটিয়া গ্রামের খায়রুল মোল্যার স্ত্রী নাজমা বেগম বুধবার বিকেলে তার নাতি ছেলে ৮ মাসের শিশু আরিয়ান অসুস্থ হয়ে পড়লে কেশবপুর শহরের শিশু ও জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসে। ওই হাসপাতালের নিয়মিত ডাক্তার কামরুল ইসলাম বিদেশে থাকার পরও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তথ্য গোপণ করে শিশুটিকে ভর্তি করে। এসময় হাসপাতালের নার্স মারিয়া ইয়াসমিন রাশিয়ায় থাকা ডাক্তার কামরুল ইসলামের সাথে মোবাইল ফোনে যুক্ত হয়ে চিকিৎসাপত্র নিয়ে সে মোতাবেক চিকিৎসা দিতে গিয়ে একপর্যায়ে শিশুটির মৃত্যু হয়। এখবর ছড়িয়ে পড়লে ক্ষিপ্ত জনগণ ওই শিশু হাসপাতাল ভাঙচুর করে। 
শিশু আরিয়ানের নানী নাজমা বেগম অভিযোগ করে বলেন, হাসপাতালের নার্স আমাদের যদি বলতো ডাক্তার নেই, তাহলে আমরা আরিয়ানকে হাসপাতাল বা অন্য ক্লিনিকে নিয়ে যেতে পারতাম। তিনি কেঁদে কেঁদে বলেন, তার মেয়ে রাবেয়া ও জামাই ঢাকায় গার্মেন্টসে চাকরী করে। শিশুটির বয়স যখন দেড় মাস তখন আমাদের কাছে রেখে তারা ঢাকায় চুকুরীতে চলে যায়। অতি কষ্টে তাকে আমরা মানুষ করছিলাম।  কেশবপুর থানার এসআই মকলেছুর রহমান বলেন, মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। পরিস্থিতি শান্ত আছে। এবিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। মৃত্যুর ঘটনা ঘটার পর হাসপাতালের কর্তৃপক্ষ কাউকে পাওয়া যায়নি।