কপোতাক্ষ নিউজে খালি থাকা সাপেক্ষে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। অতিস্বত্তর সম্পাদকের সাথে যোগাযোগ করুন।

" রমজানের জরুরী আহবান "

 " রমজানের জরুরী আহবান "
রোজা ঈমানদারদের জন্য আত্মিক উন্নয়ন ও সাফল্য লাভ এবং বিপর্যয় থেকে রক্ষায় এক অপরিহার্য্য দ্বীনী স্তম্ভ ও জীবনের অবিচ্ছিন্ন অংশ, যার মূলে রয়েছে দয়াময় আল্লাহ্তাআলা ও তাঁর হাবীব সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রেমের অভিযাত্রা ও নৈকট্য সাধনা এবং যার শর্ত হলো আত্মার ঈমানী শুদ্ধতা।

আল্লাহ্তাআলা কুরআনুল করীমে রোজার নির্দেশক আয়াত শরীফে প্রথমে ঈমানের কথা বলেছেন। সব মানুষের জন্য নয়, কেবল ঈমানদারদের জন্যই রোজা ফরজ করেছেন এবং অন্যসব এবাদত আমলের পুর্বেও ঈমানকেই প্রথম ও মুল শর্ত করেছেন। ঈমান ব্যতীত আমল কবুল হয় না এবং শুধু আমল নয় মুসলিম হওয়ার বা দাবীর মুল শর্তও কেবল ঈমান। ঈমানের ভিত্তিতেই সত্যভিত্তিক জীবন, ঈমানের বিপরীতে মিথ্যাভিত্তিক জীবন। মিথ্যাভিত্তিক আত্মা ও জীবনের আমল মিথ্যারই অংশ বিধায় গ্রহণযোগ্য হতে পারেনা। 

ঈমান কেবল আল্লাহ্তাআলাকে যেনতেন ভাবে বিশ্বাস বা উপাসনার নাম নয়, আল্লাহ্তাআলাকে অমুসলিমরাও তাদের মত করে বিশ্বাসের কথা বলে, উপাসনা করে, আখেরাতেও বিশ্বাস করে, পাপ পুণ্য, ন্যায় অন্যায়ের কথাও বলে, কিন্তু আল্লাহ্তাআলার রেসালাতে বিশ্বাস করে না, বিচ্ছিন্নভাবে কোন নবী রাসুলকে তাদের মত করে স্বীকার করলেও পুর্বাপর রেসালাতের অবিচ্ছিন্ন ধারা এবং মূল রেসালাতে ইলাহীতে বিশ্বাস করে না। রেসালাতে বিশ্বাস ও কবুল ব্যতীত তাওহীদের সম্পর্ক পাওয়া যায় না, রেসালাতই ইলাহিয়াতকে পাওয়ার মূল ঠিকানা ও কেন্দ্র এবং মূল আলো ও রহমত। নবুওত রেসালাত কবুল না করার জন্যই ইবলিছ বিতাড়িত ও অভিশপ্ত হয়েছিল। নবুওত রেসালত অগ্রাহ্য করলে বিচ্ছিন্ন হলে সে তাওহীদ ইলাহিয়াত থেকেই বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। রেসালাতে সংযুক্ত থাকলেই কেবল ইলাহিয়াতে সম্পর্কিত থাকে, নতুবা নয়।

রেসালাতই আল্লাহতাআলার নূর, আছমা, ছেফাত ও ওয়াহীর প্রকাশস্থল, যা অস্বীকার পরোক্ষ তাওহীদেরই অস্বীকার। হেদায়াত, রহমত, জ্ঞান, নাজাত সব রেছালাতের মাধ্যমেই এসেছে এবং অনন্তকাল প্রবাহিত হতে থাকবে। মহান রেসালাতকে জীবনের সব সম্পর্কের উর্ধ্বে স্থান দেয়াই ঈমানের প্রাণ এবং তাওহীদের প্রতি সর্বোচ্চ ভালবাসা।

ঈমান আত্মা ও জীবনের সবচেয়ে বড় সবচেয়ে গুরুত্বপুর্ন বিষয়, জীবনের আসল পরিচয়। ঈমান তাওহীদ রেসালাতের কেবল বাহ্যিক স্বীকার বা উচ্চারন নয়, আত্মায় কবুল করা, জীবন আল্লাহ্ ও তাঁর হাবীব সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হয়ে যাওয়া, তাওহীদ রেসালাতের বিপরীত মত পথ দর্শন থেকে মুক্ত হওয়া। পবিত্র কলেমাভিত্তিক আত্মসত্ত্বা ও জীবনচেতনার বিপরীত অবস্থান থেকে মুক্ত না হয়ে কলেমার নিছক উচ্চারন স্ববিরোধী অবস্থান। ঈমানের পবিত্র কলেমায় আমরা রেছালাত কেন্দ্রিক তাওহীদ ভিত্তিক আত্মসত্ত্বা ও জীবন চেতনার শপথ নেই, অন্তর্ভুক্ত হই এবং এর বিপরীত থেকে মুক্ত হই।

তাওহীদের বিপরীত নাস্তিকতা, নাস্তিকতা থেকে উদ্ভূত বস্তুবাদ অর্থাৎ বস্তুভিত্তিক আত্মসত্ত্বা ও জীবন চেতনা এবং বিভিন্ন বস্তুবাদী ধ্বংসাত্মক মতবাদ। তাওহীদ ইলাহীয়াতের প্রতিষ্ঠান রেসালাত, মহান রেসালাতকে কেন্দ্র করে তাওহীদী জীবন তথা ঈমানী জীবন। বস্তুকে আত্মপরিচয় ও জীবন জাতীয়তার মূল করে বস্তুর ভিত্তিতে বস্তুবাদী বস্তুপুজারী তথা নাস্তিক্যবাদী জীবন। ঈমানী আত্মসত্ত্বা রেছালাতকে অবলম্বন করে তাওহীদ ভিত্তিক হয়, আর বস্তুবাদী আত্মসত্ত্বা ভাষা, গোত্র, রাষ্ট্র, লিংগ, প্রকৃতি, প্রভৃতি বস্তুর ভিত্তিতে হয়। বস্তু মানুষের কল্যাণের জন্য আল্লাহতাআলার দান, মানবসত্ত্বার উর্ধ্বে নয়। রেসালাতে ইলাহী ভিত্তিক আত্মসত্ত্বা, আত্মপরিচয়, আত্মউপলব্ধি তথা কলেমা ভিত্তিক জীবন চেতনা ব্যতীত কলেমার নিছক উচ্চারন কেবলই শব্দ, ঈমান নয়।

কলেমা তথা তাওহীদ রেসালাত ভিত্তিক জীবন চেতনার অন্যতম মৌলিক তাৎপর্য ও প্রতিফলন বস্তুগত দাসত্ব থেকে আত্মার মুক্তি, জীবনের স্বাধীনতা, সম্মান, নিরাপত্তা, অধিকার, মালিকানা, বিকাশ ও প্রগতি, সব অবৈধ কর্তৃত্ব ও জবরদস্তির অবসান, মুক্ত ব্যক্তিসত্ত্বা। যারা ইসলামের নামে বেনামে, আল্লাহরআইন, শরিয়ত বা যে কোন শব্দের অপব্যাখ্যা অপব্যবহার করে ধর্ম আদর্শ নির্বিশেষে যে কোনো মানুষের বৈধ মৌলিক অধিকার সম্মান স্বাধীনতা বিকাশ প্রগতি হরন করে, আতংক সন্ত্রাস সৃষ্টি করে, মানবতা ধ্বংস করে, জীবন বিনাশ করে তারা কলেমার বিপরীত, ঈমান ও দ্বীনের ধ্বংসাত্মক শত্রু, আইয়ামে জাহেলিয়াতের ধারক খোদাদ্রোহী নবীদ্রোহী এজিদবাদী কুফরী চক্র। তাওহীদ রেসালাতের পরে মানুষের ব্যক্তিগত স্বাধীনতাই কলেমার সবচেয়ে বড় দান, মানবতাই দ্বীনের সর্বোচ্চ বিষয়, যা লংঘন কলেমার চেতনারই অস্বীকার। মুসলিম বা ঈমানদার দাবী করেও যারা মানবতা ধ্বংস করে তাদের ঈমান নেই এবং তারা মুসলিমও নয়।

নামাজ ও রোজা সহ সব এবাদতের পূর্বে হক বাতেল জেনে নিজের অবস্থান ঠিক করে নিতে হবে, কারণ অস্তিত্ব ও এবাদতের পূর্বশর্ত ঈমান। হক আকিদাই ঈমানের ভিত্তি এবং কোন আমল বা সুরত নয় একমাত্র ঈমানই মুসলিমত্বের ভিত্তি। ঈমানহীন আমল প্রাণহীন দেহের মত। বাতেল আকিদায় আমলের কোন মূল্য নেই। কোন বাতেল দল মতে থেকে মুসলিম দাবী মদ্যপানরত অবস্থায় রোজাদার দাবীর মতই মিথ্যা। ঈমান তথা মুমিন জিন্দেগীর পূর্বশর্ত সব বাতেল দলমত থেকে মুক্ত থেকে আল্লাহতাআলার উদ্দেশ্যে রেসালাতেইলাহী মহান প্রিয়নবীর প্রতি পূর্ণাংগ বিশ্বাস, প্রাণাধিক ভালবাসা, প্রিয়নবীকেন্দ্রিক আত্মসত্ত্বায় অটল হয়ে সত্যের চিরন্তন ধারা তথা খোলাফায়ে রাশেদীন, আহলে বায়েত, সত্যের ইমামবৃন্দ ও আওলিয়াকেরামের সম্পর্কে যুক্ত থাকা, যারা এ ধারা থেকে বিছিন্ন তাদের আত্মা মৃত এবং ঈমান থেকেই বিচ্ছিন্ন ।

আত্মিক শুদ্ধি নয় আত্মিক উন্নতির জন্যই রোজা, বাতেলগ্রস্ত মিথ্যার ধারক দূষিত অশুদ্ধ আত্মার উন্নতি অসম্ভব। বাতেল দলমত নেতৃত্ব তথা মিথ্যা ও জুলুমের সম্পর্কই আত্মা দূষিত করে। ঈমান তথা সত্যে অটলতা এবং প্রিয়নবীর পরম ভালবাসাই আত্মিক শুদ্ধির আলো। আত্মার মূল, অস্তিত্ত্বের উৎস মহান রাসুল থেকে কোন ভাবে বিচ্ছিন্ন থাকলে রাসুল কেন্দ্রীক না হয়ে বস্তুভিত্তিক হয়ে থাকলে আত্মা মৃত অন্ধকার ও নাপাক হয়ে যায়,যেখানে নামাজ রোজা বা কোন এবাদতই আর কোন কাজে আসে না। প্রবৃত্তির দাসত্ব থেকে মুক্তির জন্য রোজা প্রবৃত্তির বিরুদ্ধে সংগ্রাম। কিন্তু মিথ্যা ও জুলুমের সম্পর্ক থেকে আত্মার মুক্তি ব্যতিত প্রবৃত্তি মুক্তির চেষ্টা অবান্তর। হাদিছ শরীফ অনুযায়ী শুধু ঈমান নয়, নিষ্ঠুরতা, হিংসা, অহংকার, অন্যের অনিষ্ট ইত্যাদি অসৎ স্বভাব থেকে মুক্ত হওয়া এবং সৎ গুনাবলী অর্জন করাও এবাদত কবুল হওয়ার জরুরী শর্ত যা তরিকতেরও মুল বিষয় এবং আমলের চেয়েও গুরুত্বপুর্ণ।

পবিত্র রমজানে অবশ্যই কোরআনুল করীম তেলাওয়াত করতে হবে, কিন্তু অপব্যাখ্যার শিকার হওয়া যাবে না, ওহাবী, মওদূদী, তবলীগী, শিয়া, কাদিয়ানী, সালাফী প্রভৃতি বাতেল ফেরকার বই পুস্তক ওয়াজ তফসির ঈমান হানিকর অপব্যাখ্যা। কোরআন পাকের সব আয়াতের অভিধানিক অর্থ গ্রহণ আল্লাহতাআলা নিজেই নিষিদ্ধ করেছেন, (সুরা আল ইমরান আয়াত-৭)। অতএব ঈমান হারা না হয়ে সত্যে অটল থাকতে হলে কেবলমাত্র মহান আহলে বায়েত, খোলাফায়ে রাশেদীন, সত্যের ইমামবৃন্দ ও আওলিয়াকেরামের পথ আহলে ছুন্নাত ওয়াল জামায়াতের দিশায় যুগের সঠিক দিকদর্শনে থাকতে হবে। 

ন্যায়, শান্তি, স্বাধীনতা, অধিকার, নিরাপত্তা, সেবা, মানবতা, ভালবাসা, জ্ঞান, প্রগতি ও গণতন্ত্রের ধারক রক্ষক প্রকৃত ইসলামের ধারকদের বিশ্বব্যাপী ঐক্যবদ্ধ কর্মসূচী না থাকায় সভ্যতা মানবতা স্বাধীনতা বিপন্নকারী মিথ্যা বর্বরতা জুলুম আগ্রাসনের ধারক বিভিন্ন অপশক্তির সাথে সাথে ইসলামের ছদ্মবেশী বর্বর পাশবিক শক্তি প্রকৃত ইসলামকে বিলুপ্ত করে তাদের কুফর মিথ্যা জুলুম স্বৈরতাকে ইসলাম হিসেবে চালিয়ে দেয়ার প্রকাশ্য অপতৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। স্বাভাবিকভাবে অক্ষম হওয়ায় সন্ত্রাস ও ইসলামের ছদ্মনামে রাষ্ট্র ক্ষমতা দখল করে ক্ষমতার জোরে নিজেদের অনাচার চাপিয়ে দেয়ার অপচেষ্টা করছে। বিশেষভাবে কেবলাভূমি পবিত্র আল আরবে ঈমানদ্বীন পরিপন্থী গোত্রবাদী সৌদী ওহাবী স্বৈরশাসনের সুযোগে তাদের সহায়তায় ওহাবী সালাফী বোমাবাজ উগ্র জঙ্গিবাদী সভ্যতা মানবতা বিনাশী অপশক্তির উত্থান হচ্ছে। 

খারেজী ওহাবী জংগীবাদী মাদ্রাসা এবং বিবেকহীন খুনী সন্ত্রাসী দল তৈরী করে এরা এসব অপকর্ম চালাচ্ছে। ঈমান বিনাশ, দ্বীন বিকৃতি, পবিত্র কোরআন হাদিছ শরীফের অপব্যাখ্যা, দ্বীনের নিদর্শন রুহানিয়াতের কেন্দ্র পবিত্র মাজার শরীফ সমূহে হামলা, আইন আমল ফতোয়ার বাড়াবাড়ি জবরদস্তি, অন্যের ব্যক্তিজীবনে অবৈধ অনধিকার হস্তক্ষেপ, বোনদের শিক্ষা মর্যাদা মানুষসত্ত্বা স্বাধীনতা অধিকার হরণ, শরিয়ত সম্মত সুস্থ স্বাভাবিক পর্দার বিপরীতে মনগড়া অতিপর্দার অবরোধ আরোপ, জ্ঞান বিজ্ঞান প্রযুক্তি প্রগতি ও গণতন্ত্রের বিরুদ্ধাচরণ ও জিহাদের নামে খুন সন্ত্রাস অপরাধে লিপ্ত এসব বাতেল ফেরকাই আজ ঈমান দ্বীন মিল্লাতের সর্বনিকৃষ্ট প্রধান শত্রু।এসব বাতেলের এক্তেদায় নামাজ ঈমান বিসর্জন দিয়ে আমল তথা গাছের মূল কেটে শাখায় পানি দেয়ার মত এবং এদের মাদ্রাসায় যাকাত ইসলাম ধ্বংসে শত্রুকে সাহায্য করা। হক ও মানবতা রক্ষার আন্দোলন এবং বাতেল ও জুলুমের বিরুদ্ধে অবস্থান ঈমানী দায়িত্ব। ঈমানী দায়িত্ব অবহেলা করে সত্যের কাফেলা থেকে বিচ্ছিন্ন থেকে কেবল ব্যক্তিগত আমলে সাফল্য আসবে না। সত্যের আপনদের ঐক্যবদ্দ্ব প্রচেষ্টার মধ্যেই সার্বিক মুক্তি এবং সত্য ও মানবতার বিজয়। 

- আল্লামা ইমাম হায়াত আলাইহির রাহমা(ইসলামের মূল ধারা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের প্রকৃত ধারার এ যুগের পূণরূজ্জীবনকারী এবং বিশ্ব সুন্নী আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা ও বিশ্ব ইনসানিয়াত বিপ্লবের প্রবর্তক)

আত্রাইয়ে উপজেলা আইন শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত

 আত্রাইয়ে উপজেলা আইন শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত

মোঃ ফিরোজ আহমেদ রাজশাহী ব্যুরোঃ নওগাঁর আত্রাই উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারী) সকাল সাড়ে ১১টায় উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা পরিষদ সভা কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মোঃ আলাউল ইসলামের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, নওগাঁ- ৬(আত্রাই রাণীনগর)আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য শেখ মো.রেজাউল ইসলাম।


সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নূরে আলম সিদ্দিক, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক তসলিম উদ্দিন,উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি মো.আব্দুল জলিল চকলেট, ইউনিয়ন চেয়ারম্যান এস এম মুঞ্জুরুল আলম,  সম্রাট হোসেন, এসএম মামুনুর রশিদ,কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ প্রসেনজিৎ তালুকদার,সমাজ সেবা কর্মকর্তা মো.নিজাম উদ্দিন,সমাজসেবা কর্মকর্তা সোহেল রানা,যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা এসএম নাসির উদ্দিন 
সহ বিভিন্ন সাংবাদিক বৃন্দ। 
সভায় বক্তারা উপজেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও উন্নত রাখতে প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এছাড়া জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও নিয়মিত নজরদারি অব্যাহত রাখার বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

আত্রাইয়ে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যের সাথে উপজেলা দপ্তর প্রধানদের মতবিনিময়

আত্রাইয়ে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যের সাথে উপজেলা দপ্তর প্রধানদের মতবিনিময়


মোঃ ফিরোজ আহম্মেদ,রাজশাহী ব্যুরোঃ নওগাঁর আত্রাই  উপজেলায় নওগাঁ-৬ আসন থেকে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য শেখ মো. রেজাউল ইসলামের সাথে উপজেলা পর্যায়ের দপ্তরগণের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার  (২৫ফেব্রুয়ারি) বেলা১১ টায় উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে মতবিনিময় সভায়  অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা নির্বাহী অফিসার শেখ মো.আলাউল ইসলামের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নওগাঁ- ৬(আত্রাই-রাণীনগর)আসেন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য শেখ মো.রেজাউল ইসলাম। 

মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন,উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নূরে আলম সিদ্দিক,উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ প্রসেনজিৎ তালুকদার,সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো.মাকসুদুর রহমান,প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ আবু আনাছ,সমবায় কর্মকর্তা মো.নিজাম উদ্দিন,সমাজ সেবা কর্মকর্তা সোহেল রানা,হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা মো.ওবাইদুল ইসলাম,উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো.আব্দুল্লাহ আল মামুন,যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা এস এম নাসির উদ্দিন,প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো.মাজহারুল ইসলাম,খাদ্য কর্মকর্তা শামসুন্নাহার,পরিসংখ্যান কর্মকর্তা মো.সাইফুল ইসলাম,বন কর্মকর্তা মো.আব্দুল খালেক,প্রতিবন্ধী বিষয়ক কর্মকর্তা পি এম কামরুজ্জামান, আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা মো.জগলুল,প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো.মোয়াজ্জেম হোসেন প্রমুখ।

মতবিনিময় সভার শুরুতেই পরিচয় পর্ব শেষে উপজেলা দপ্তর প্রধাগণ কর্মরত দপ্তরের বিভিন্ন সুবিধা-অসুবিধার কথা তুলে ধরেন। এছাড়াও অন্যান্য দপ্তর প্রধানগণ তাদের বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেন এবং সমস্যাগুলো নিরসনে মাননীয় সংসদ সদস্যের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন।
সবশেষে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য শেখ  মো.রেজাউল ইসলাম সকল দপ্তর প্রধানদের আনীত সমস্যাগুলো সমাধানের জন্য সর্বাত্মক সহযোগিতা করবেন এবং একটি আধুনিক আত্রাই উপজেলা গড়ায় ভূমিকা রাখবেন বলে আশ্বাস প্রদান করেন।

মোহনগঞ্জে ব্যবসায়ীর ঘরের তালা ভেঙে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার চুরি

মোহনগঞ্জে ব্যবসায়ীর ঘরের তালা ভেঙে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার চুরি

মোহনগঞ্জ (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি: নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলায় এক ব্যবসায়ীর বসত ঘরে চুরির ঘটনা ঘটেছে। এসময় ঘরে থাকা স্বর্নালংকার, নগদ টাকা ও টিভি-ফ্রিজসহ কয়েক লাখ টাকা মূল্যের নানা আসবাবপত্র নিয়ে যায়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী রুপন সরকার বাদী হয়ে থানায় অভিযোগ করেছেন। আজ মঙ্গলবার মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুল ইসলাম হারুন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।এর আগে গত রোববার উপজেলার বাহাম গ্রামে এ চুরির ঘটনা ঘটে। 

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বাহাম গ্রামের রূপন সরকার ব্যবসার সুবাদে দীর্ঘদিন ধরে পরিবার নিয়ে ঢাকায় বসবাস করেন। ফলে গ্রামের বাড়িতে দীর্ঘদিন ধরে তার পিসি পরিবারসহ বসবাস করে আসছিলেন। গত ১৮ ফেব্রুয়ারি তার পিসি মেয়ের বাড়িতে বেড়াতে গেলে বাড়িটি খালি থাকে। ২২ ফেব্রুয়ারি ভোর  ৫টার দিকে এক প্রতিবেশী রূপন সরকারের বাড়ির সামনের দরজার তালা ভাঙা দেখতে পেয়ে তাকে ও তার পিসিকে মোবাইল ফোনে বিষয়টি জানান। খবর পেয়ে তারা বাড়িতে এসে দেখেন, ঘরের ভেতরের জিনিসপত্র এলোমেলো অবস্থায় পড়ে আছে। পরবর্তীতে তারা শোবার ঘরে গিয়ে দেখেন, ওয়ারড্রোবের তালা ভাঙা এবং ভেতরে থাকা নগদ ৪৫ হাজার টাকা ও প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকা মূল্যের স্বর্ণালংকার চুরি হয়েছে। চুরি হওয়া স্বর্ণালংকারের মধ্যে রয়েছে ১২ আনা ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন, ৮ আনা ওজনের এক জোড়া কানের দুল এবং ৪ আনা ওজনের একটি নাকের নথ। এছাড়া একটি ওয়ালটন ফ্রিজ, দুটি গ্যাস সিলিন্ডার, দুটি গ্যাসের চুলা, একটি রাইস কুকার এবং কাঁসার থালা-বাসনসহ অন্যান্য মালামাল চুরি হয়েছে। সব মিলিয়ে কয়েক লাখ টাকার মালামাল খোয়া গেছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। ওসি হাফিজুল ইসলাম হারুণ বলেন, ঘর খালি রেখে কোথাও যাওয়াটা ঠিক নয়। অভিযোগটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করে এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জনগণের সেবায় আসতে চান হাজী মোঃ মনির কালাম

জনগণের সেবায় আসতে চান হাজী মোঃ মনির কালাম

মিঠুন রাজ, স্টাফ রিপোর্টারঃ জিয়ানগর উপজেলার জনপ্রিয় ব্যক্তি হাজী মোঃ মনির কালাম আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ৪নং ইন্দুরকানী সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

দলমত নির্বিশেষে গণমানুষের নেতা হিসেবে বিভিন্ন সময়ে তিনি রাস্তা-ঘাট উন্নয়ন, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি বাস্তবায়ন এবং সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে দায়িত্বশীল নেতৃত্বের পরিচয় দিয়েছেন। হাজী মোঃ মনির কালাম জানিয়েছেন—"সবার সহযোগিতা ও দোয়া পেলে নির্বাচনে অংশ নিয়ে ইউনিয়নের উন্নয়ন ও জনগণের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করতে চাই।"ইউনিয়নের সার্বিক উন্নয়ন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে তিনি কাজ করে যেতে চান বলেও জানিয়েছেন। ইন্দুরকানী ইউনিয়নবাসীর মতামতই হবে তাঁর শক্তি।আপনারা কি তাঁকে নেতৃত্বে দেখতে চান?

রাণীনগরে সাজনার মুকুলে স্বপ্ন বুনছেন কৃষকরা, বাম্পার ফলনের আশা

রাণীনগরে সাজনার মুকুলে স্বপ্ন বুনছেন কৃষকরা, বাম্পার ফলনের আশা

মোঃ ফিরোজ আহম্মেদ,রাজশাহী ব্যুরোঃ বরেন্দ্র অঞ্চলখ্যাত রাণীনগর উপজেলা–এ চলতি মৌসুমে সজনার গাছে গাছে ব্যাপক মুকুল দেখা দেওয়ায় কৃষকদের মাঝে দেখা দিয়েছে নতুন আশার সঞ্চার। অনুকূল আবহাওয়া এবং পর্যাপ্ত রোদ-বৃষ্টির সমন্বয়ে এ বছর সজনার বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে। উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, বাড়ির আঙিনা, রাস্তার পাশ ও ফসলি জমির আইলে লাগানো সজনা গাছগুলো সাদা মুকুলে ছেয়ে গেছে। মৌমাছির গুঞ্জনে মুখরিত চারপাশ। বরেন্দ্র অঞ্চলের মাটি সজনা চাষের জন্য উপযোগী হওয়ায় অন্য ফসলের তুলনায় এবার সজনার ফলন বেশি হতে পারে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ধান ও আমের জন্য পরিচিত নওগাঁ জেলা–এ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সজনা চাষে আগ্রহ বেড়েছে। কম খরচে বেশি লাভ হওয়ায় অনেকেই বাড়ির আঙিনা ও জমির আইলে সজনা গাছ রোপণ করছেন।কৃষকদের প্রত্যাশা আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ফলন হবে রেকর্ড পরিমাণ। বড় কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে উৎপাদন ব্যাহত হবে না।বাজারে ন্যায্য দাম পেলে লাভবান হবেন চাষিরা। একজন কৃষক জানান, "এবার গাছে যে পরিমাণ মুকুল এসেছে, তাতে ভালো ফলনের আশা করছি। বাজারদর ঠিক থাকলে সজনাই হবে আমাদের লাভজনক ফসল।"পুষ্টিগুণে ভরপুর সজনার চাহিদা সারা বছরই ভালো থাকে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, উৎপাদন ও বাজার ব্যবস্থাপনা সঠিক হলে রাণীনগরের সজনা স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে দেশের অন্যান্য জেলাতেও সরবরাহ করা সম্ভব হবে।

চৌগাছায় সন্ত্রাসী হামলায় আহত স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা শাহিনুর রহমানের মৃত্যু

 চৌগাছায় সন্ত্রাসী হামলায় আহত স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা শাহিনুর রহমানের মৃত্যু

বাম দিক থেকে আহত শাহিনুর রহমান 
নিউজ ডেস্কঃ যশোরের চৌগাছায় সন্ত্রাসী হামলায় গুরুতর আহত স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা ও সাবেক পৌর কাউন্সিলর শাহিনুর রহমান (৪৫) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) রাত ৮টার দিকে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।
নিহত শাহিনুর রহমান চৌগাছা পৌরসভার কুঠিপাড়া এলাকার মৃত নজরুল ইসলামের ছেলে। তিনি পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর এবং উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক নেতা ছিলেন।স্বজনরা জানান, গত ১৬ ফেব্রুয়ারি বেলা ১১টার দিকে কুঠিপাড়া এলাকায় একটি দোকানে বসে ছিলেন শাহিনুর রহমান। এ সময় একদল সন্ত্রাসী সেখানে অতর্কিত হামলা চালিয়ে তাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে দ্রুত পালিয়ে যায়।
স্থানীয়রা রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। পরে অবস্থার অবনতি হলে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়। ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার রাতে তিনি মারা যান।নিহতের নিকট আত্মীয় নাট্যকার আনিছুর রহমান মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এ বিষয়ে চৌগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করিম বলেন, “মৃত্যুর বিষয়ে আমাদের কাছে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বার্তা আসেনি। লিখিত তথ্য পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। হামলাকারীদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে স্থানীয় নেতাকর্মী ও এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে